sliderস্থানিয়

সালথায় প্রবাসীর স্ত্রী পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পলায়ন

বিধান মন্ডল (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী, দুই সন্তানের জননী স্বামীর নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এঘটনায় (১৮ এপ্রিল) শনিবার প্রবাসীর নানা শাহজালাল সালথা থানায় একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতাগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল শেখ প্রায় ১০ বছর আগে মোসা. মালেকা বেগম (৩৫)-কে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের আর্থিক উন্নতির লক্ষ্যে নজরুল শেখ প্রায় ছয় বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং সেখানেই কর্মরত আছেন।

এদিকে, প্রবাসে থাকা স্বামীর অনুপস্থিতিতে মালেকা বেগম একই গ্রামের বাসিন্দা ইশা মোল্লার ছেলে হাসিবুল (২৫)-এর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাস থেকে পাঠানো অর্থ এবং প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার তার জিম্মায় ছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, স্বামীর সংসারে থাকা অবস্থায় মালেকা বেগম তার বাবার বাড়ি এবং কথিত প্রেমিক হাসিবুলকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে ঘর নির্মাণে সহযোগিতা করেন। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন, যা এলাকায় জানাজানি হয়।

পরবর্তীতে গত ১৮ এপ্রিল দুপুরে তিনি স্বামীর ঘর থেকে নগদ অর্থ, দামি আসবাবপত্র ও প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ আনুমানিক ২০ লাখ টাকার সম্পদ নিয়ে হাসিবুলের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। সেখানে গিয়ে তিনি হাসিবুলকে স্বামী হিসেবে দাবি করেন এবং তাদের বিয়ে হয়েছে বলে জানান।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঘটনার দিন মালেকা বেগম হাসিবুলের বাড়িতে অবস্থান নেন। তবে পরবর্তীতে তাদের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। হাসিবুলের মা ঘটনার সত্যতা আংশিক স্বীকার করে বলেন, তার ছেলে বর্তমানে বাড়িতে নেই এবং মালেকা বেগম তার বাবার বাড়িতে গেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, “মালেকা আমার ছেলের স্ত্রী। সব জেনেশুনেই সে আমাদের বাড়িতে এসেছে, আমরা তাকে মেনে নিয়েছি।”

এ বিষয়ে সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, “এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button