
মোঃ আব্দুজ জাহের, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম জুপ্পুই এলাকায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়া প্রভাতী ত্রিপুরা (১৮) নামে এক তরুণীকে উদ্ধার করে চিকিৎসাসেবা দিয়ে তার জীবন রক্ষা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিকিৎসাসেবার অভাবের মধ্যে বিজিবির এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ তীব্র পেটব্যথায় আক্রান্ত হন প্রভাতী ত্রিপুরা। ব্যথার তীব্রতা বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলেও আশপাশে কোনো হাসপাতাল কিংবা কমিউনিটি ক্লিনিক না থাকায় পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়ে।
এ সময় স্বামী রুহিম ত্রিপুরা শেষ ভরসা হিসেবে ছুটে যান ৫৪ বিজিবি বাঘাইহাট ব্যাটালিয়নের জুপ্পুই বিওপিতে। খবর পাওয়ার পর এক মুহূর্তও দেরি না করে ৫৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন ফারুকীর নির্দেশনায় বিজিবির সদস্যরা দুর্গম পাহাড়ি পথে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পরে মুমূর্ষু অবস্থায় থাকা প্রভাতীকে উদ্ধার করে দীর্ঘ দুর্গম পথ পায়ে হেঁটে জুপ্পুই বিওপিতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হলে ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি ঘটে। সুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে তাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্বজনরা জানান, সময়মতো বিজিবির সহায়তা না পেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। প্রভাতীর জীবন রক্ষায় বিজিবির দ্রুত পদক্ষেপ ও মানবিক সহায়তার জন্য তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ ঘটনায় জুপ্পুই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাদের মতে, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের বিপদে-আপদে বিজিবি যেভাবে পাশে দাঁড়ায়, তা এলাকার মানুষের মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ আরও শক্তিশালী করে।
৫৪ বিজিবি বাঘাইহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, “সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির দায়িত্বের অংশ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”
দুর্গম পাহাড়ে যখন চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো কঠিন, তখন বিজিবির এমন মানবিক উদ্যোগ প্রমাণ করে—সীমান্তের প্রহরীরা শুধু নিরাপত্তাই নয়, প্রয়োজনে মানুষের জীবন বাঁচাতেও নির্ভরতার প্রতীক।




