sliderস্থানিয়

সাজেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সুমতি চাকমার পরিবারের পাশে মারিশ্যা জোন

মোঃ আব্দুজ জাহের,বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সুমতি চাকমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি)। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে নিহতের পরিবারের হাতে শিক্ষা উপকরণ, পোশাক, নগদ অর্থ এবং খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিহতের আট বছর বয়সী কন্যা প্রান্তি চাকমার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সাজেক এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মারিশ্যা জোনের কর্মকর্তারা পরিবারটির হাতে শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী, নতুন পোশাক, নগদ আর্থিক সহায়তা এবং চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

এর আগে গত ১৮ জুলাই বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক থানার চম্পাতলী এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন টন ওজনের একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে সুমতি চাকমা নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই মারিশ্যা জোনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল। সে সময় নিহত পরিবারের পাশে থাকার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

দুর্ঘটনায় মাকে হারিয়ে প্রান্তি চাকমার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে মারিশ্যা জোন তার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে শিক্ষা উপকরণ, পোশাক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। পাশাপাশি পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে খাদ্যসামগ্রীও দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানের পক্ষ থেকে পরিবারটির জন্য একটি ঘর নির্মাণে টিন এবং অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়।

মারিশ্যা জোনের জোন কমান্ডার বলেন, বিজিবি সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনেও অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, প্রান্তি চাকমার শিক্ষাজীবন যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মারিশ্যা জোনের মেডিকেল অফিসার মেজর অমিত কুমার সাহা (এএমসি), বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান, সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুপ্তশ্রী সাহা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নিহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে শিশুকন্যার শিক্ষার দায়িত্বে সহায়তার উদ্যোগ একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।

নিহত সুমতি চাকমার পরিবারের সদস্যরা সহায়তার জন্য বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তারা চরম সংকটে পড়েছিলেন। এ সময়ে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা তাদের জন্য অনেক সহায়ক হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button