sliderস্থানিয়

বারসিক কর্মী সামায়েল হাসদা ও ইউসুফ আলীর স্মরণে মানিকগঞ্জে স্মরণ সভা

মোঃ নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ : কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “যেতে নাহি দিব হায়, তবুও যেতে দিতে হয়”— পঙ্‌ক্তিটির মতো চোখের জল আর ভালোবাসায় মানিকগঞ্জে বিদায় জানানো হলো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিক (BARCIK)-এর দুই নিবেদিতপ্রাণ প্রাণপুরুষকে। সংস্থার কর্মঘণ্টার বাইরেও সমাজ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ অবদান রাখা প্রয়াত বারসিক কর্মকর্তা সামায়েল হাসদা (প্রয়াত: ০৭ অক্টোবর ২০২৫) এবং সমাজকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক মোঃ ইউসুফ আলী (প্রয়াত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬)-এর স্মরণে এক স্মৃতিচারণ ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পোড়রাস্থ বারসিক মানিকগঞ্জ রিসোর্স সেন্টারে আয়োজিত এ স্মৃতিচারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বারসিক কর্মকর্তা রাশেদা আক্তার। বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায়ের প্রাঞ্জল সঞ্চালনায় সভায় প্রয়াত দুই সহকর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন কমল চন্দ্র দত্ত, শিমুল কুমার বিশ্বাস, নিতাই চন্দ্র দাস, গাজী শাহাদাত হোসেন বাদল, শাহীনুর রহমান ও মুক্তার হোসেনসহ অন্যান্য সহকর্মীবৃন্দ।

সংগ্রাম, পড়াশোনা ও ক্রীড়ানৈপুণ্যের প্রতীক: সামায়েল হাসদা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সহকর্মীরা সামায়েল হাসদার অদম্য জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। রাজশাহী গোদাগাড়ী থেকে এসএসসি পাশ করার পর তিনি মানিকগঞ্জে বারসিক-এ অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কাজের পাশাপাশি নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে তিনি স্থানীয় খানবাহাদুর আওলাদ হোসেন কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

চাকরির গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর নিজস্ব একটি পরিচিতির জগৎ তৈরি হয়েছিল। দারুণ ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন সামায়েল; দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমন্ত্রিত (হায়ার) খেলোয়াড় হিসেবে তিনি মাঠ মাতিয়েছেন।

সাংস্কৃতিক জাগরণ ও জননেতা: ইউসুফ আলী অন্যদিকে মোঃ ইউসুফ আলী ছিলেন প্রগতিশীল রাজনৈতিক চেতনায় বিশ্বাসী এক আপাদমস্তক সমাজকর্মী। সমাজে সমতা ও সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার প্রসারে তিনি সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
গণমানুষকে জাগ্রত করতে তিনি নিজে বহু গান রচনা ও পরিবেশন করেছেন। মাঠপর্যায়ের জনসংগঠনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবেও নির্বাচিত হন।

স্মরণ সভায় বক্তারা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন যে, সামায়েল হাসদা ও ইউসুফ আলী—দুজনেই ছিলেন বহুমুখী গুণের অধিকারী। নিজ নিজ কাজের মধ্য দিয়ে তাঁরা বারসিক পরিবার এবং মানিকগঞ্জের মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button