লুকিয়ে বিয়েতে সায় ছিল না কারও। একে অপরের ভালবাসার কথা তাই পরিবারকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সে সম্পর্ক নিয়ে বেঁকে বসেছিল উভয় পরিবারই। ফলে বাধ্য হয়েই পালিয়ে বিয়ের দিনক্ষণ প্রায় যখন নিশ্চিত, ঠিক তখনই আরও বড় বাধা এসে উপস্থিত। সারা ভারতব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করে দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদি।
তাহলে উপায়? এতদিন নিরুপায় হয়েই ঘরবন্দি ছিলেন ওই দুই প্রেমিক-প্রেমিকা- ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলার হনুমান জাংশনের চিতিকলা ভবানী এবং তার ঠিক পাশের গ্রামের তরুণ সাই পুণ্যায়া। এ দিকে লকডাউনের মেয়াদও ফের বাড়াতে পারে, তাই বাধ্য হয়েই ৬০ কিলোমিটার হেঁটে প্রেমিকের কাছে গিয়ে বৃহস্পতিবার বিয়েটা সেরেই ফেললেন চিতিকলা।
তবে তাতেও তাদের ভালবাসার হ্যাপি এন্ডিং হয়নি।
ভারতীয় গলমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মেয়েকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিল প্রেমিকা চিতিকলার পরিবার। আর তারা যখন বাড়ির মেয়ের কান্ডের কথা জানতে পারলেন, নবদম্পতিকে রীতিমতো হুমকি দিতেও শুরু করে বলে অভিযোগ চিতিকলা এবং পুণ্যায়ার। নিরাপত্তা চেয়ে আপাতত পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন এই নবদম্পতি।
পুলিশ সূত্রের খবর, চিতিকলা এবং পুণ্যায়ার চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক। সম্প্রতি তারা তাদের সম্পর্কের কথা বাড়িতে জানান। কিন্তু দুই বাড়ি থেকেই কেউ সেটা মানতে চাননি। ফলে তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করবেন স্থির করেছিলেন। কিন্তু লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় সে উপায় বন্ধ হয়ে যায়। এ বার লকডাউনের মেয়ার ফের বাড়তে পারে এই আশঙ্কা করেই দুজনেই চটজলদি বিয়ে করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাস্তায় কোনও যানবাহন নেই। তাই বাধ্য হয়েই ৬০ কিলোমিটার হেঁটে প্রেমিকের কাছে পৌঁছান প্রেমিকা চিতিকলা।
পুলিশ জানিয়েছে, দুজনেই সাবালক, তাই পরিবারের অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়। উভয় পরিবারকে থানায় ডেকে কাউন্সেলিং করা হয়েছে। সূত্র : আনন্দবাজার




