
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা: অভাব-অনটন যার নিত্যসঙ্গী, জীবিকার একমাত্র ভরসা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি। সংসারের টানাপোড়েনে প্রতিটি দিন কাটে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সেই মানুষটিই প্রমাণ করলেন—সততা কখনো অর্থের কাছে হার মানে না। কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার হতদরিদ্র ঝালমুড়ি বিক্রেতা জয়নাল আবেদীন (৪৪) অসাধারণ সততার পরিচয় দিয়ে সমাজে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
রোববার সন্ধ্যায় রৌমারী-ঢাকা মহাসড়কের কর্তিমারী বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ দেখতে পান জয়নাল। কৌতূহলবশত ব্যাগটি খুলে তিনি দেখেন, ভেতরে রয়েছে নগদ ৩৭ হাজার টাকা। নিজের অভাবের কথা চিন্তা না করে কিংবা টাকার প্রতি লোভ না দেখিয়ে তিনি এক মুহূর্তও দেরি করেননি প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিতে।
এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় সংবাদকর্মী আনিছের সহযোগিতা চান। পুরো ঘটনা জানার পর ওই সংবাদকর্মী তাঁর ফেসবুক পেজে বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অল্প সময়ের মধ্যেই টাকার প্রকৃত মালিকের স্বজনদের নজরে আসে। পরে তারা জয়নালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপস্থিত মানুষের সামনে জয়নাল আবেদীন ব্যাগে থাকা পুরো ৩৭ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ ও সৎ আচরণে উপস্থিত সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
টাকা ফিরে পেয়ে আনন্দে আপ্লুত হন ৯০ বছর বয়সী আবুল হোসেন। তিনি রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “এই টাকা হারিয়ে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। মনে হয়েছিল আর কখনো হয়তো ফিরে পাব না। কিন্তু জয়নালের মতো একজন সৎ মানুষ এখনও সমাজে আছেন বলেই আমার কষ্টার্জিত টাকা আবার ফিরে পেলাম। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।”
স্থানীয় সংবাদকর্মী আনিছুর রহমান বলেন, “চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও জয়নাল আবেদীনের এই সততা সত্যিই বিরল। অর্থের লোভকে জয় করে তিনি যে মানবিকতা ও নৈতিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য শিক্ষণীয়। এমন মানুষই আমাদের আশা জাগায় যে সততা এখনও বেঁচে আছে।”
জয়নাল আবেদীনের এই মহৎ উদ্যোগ এখন রৌমারীজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। অভাবের কাছে মাথা নত না করে সততাকে বেছে নেওয়া এই সাধারণ ঝালমুড়ি বিক্রেতা দেখিয়ে দিলেন—মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার সম্পদে নয়, তার সততা, মানবিকতা ও নৈতিকতায়।




