sliderস্থানিয়

বোয়ালমরীতে বন্ধ হয়ে গেল দেড়শো বছরের নৌকা বাইচ ও মেলা

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দেড়শো বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলা শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেল। উপজেলার শেখর ইউনিয়নের তেলজুড়ি বাজারের পাশে কুমার নদে নৌকা বাইচ ও এলাকায় গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর ২৬ সেপ্টেম্বর বা ৯ আশ্বিন (১১ আশ্বিন) এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এবারও আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তেলজুড়ির পাশেই পরমেশ্বরদীর সাথে সালথা উপজেলার খারদিয়ার কাইজা দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছে। এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপরদিকে মেলায় অতিথি করা নিয়ে স্থানীয় বিরোধ আছে। এই দুই কারণে মেলা বন্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রায় দু’শ বছর ধরে কুমার নদে নৌকা বাইচ এবং এলাকায় গ্রামীণ মেলা হয়ে আসছে। এ মেলায় মিষ্টি, খেলনা, চুরি সূতা, কসমেটিকস, গেন্ডারি কুশর, ফার্নিচার, ইলিশ মাছসহ নানাধরণের জিনিসপত্র পাওয়া যেতো।

প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও নৌকা বাইচ ও মেলা আয়োজনের জন্য একাধিকবার মিটিং করে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ শাকির আহমদকে শাকু কমিটির সভাপতি এবং ৮ নং ইউনিটের সাবেক মেম্বার আব্দুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু কয়েক দিনের মাথায় তাঁরা (সভাপতি, সম্পাদক) পদত্যাগ করেন। পরে বাজার বণিক সমিতি আলোচনা করে মেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
তেলজুড়ি নতুন বাজারের ব্যবসায়ী মো. মনিরুজ্জামান মৃধা বলেন, পরমেশ্বরদীর সাথে খারদিয়ার ঝামেলা চলছে। মেলায়ও ঝামেলা হতে পারে। তাই বাজারের ব্যবসায়ী বা নেতারা কেউ ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না।

বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা মো. ইলিয়াস মোল্যা বলেন, বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী মিলে মেলা করা হয়। এবারও সেভাবে সবাইকে ডেকে মিটিং করে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সম্পাদক পদত্যাগ করেন। কেন তাঁরা পদত্যাগ করলেন সে বিষয়ে কিছু জানিনা। বাজারের ব্যবসায়ীরা এলাকাবাসীকে বাদ দিয়ে মেলা করতে চাচ্ছে না। বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমাদের ডেকেছিলেন। তিনি জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করতে বলেছিলেন। কিন্তু আমরা পূর্বে কখনোই আবেদন করে মেলার অনুমতি নেইনি। স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সমন্বয়ে মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

গত বছরের মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও শেখর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রইসুল ইসলাম পলাশ বলেন সামনে নির্বাচন তাই এবার মেলার দায়িত্ব নিজ থেকেই ছেড়ে দিয়ে আসছি। বাজার কমিটিকে বলেছি সকলকে নিয়ে মেলা করার জন্য। প্রায় দু’শ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়া দুঃখজনক।

মেলা কমিটির পদত্যাগকারী সভাপতি সৈয়দ শাকির আহমদ বলেন, সমন্বয়ের অভাবেই আমি কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি। তাছাড়া মেলায় অতিথি করা নিয়েও মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। আমরা চেয়েছিলাম বর্তমান ক্ষমতশীন বিএনপির কাউকে অতিথি করতে কিন্তু অন্যরা চায় ভিন্ন। ঝামেলা এড়াতেই আমি সরে গেছি।

শেখর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ বলেন, মেলা বন্ধের বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু বলেনি। তবে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা বন্ধ হওয়া দুঃখজনক। এভাবে চললেতো আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে। আমি চাই মেলা হোক। যে কোন ধরনের সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত আছি।

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা চাই মেলা ও নৌকা বাইচ হোক। এটা ফরিদপুর জেলার ঐতিহ্য। সেজন্য আমি বাজার ও মেলা কমিটিকে ডেকে বলেছিলাম, জেলা প্রশাসক এবং ইউএনও বরাবর আবেদন করতে। প্রশাসন তাঁদের সকল প্রকার সহযোগিতা করতো। কিন্তু তাঁরা আর যোগাযোগ করেনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button