খেলা

এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন মিরোনা

মহিলা ফুটবল দলে পুরুষ কোচ অহরহই দেখা মিলে। কিন্তু পুরুষ ফুটবল দলে মহিলা কোচ আজো দেখেনি বাংলাদেশ। ঠিক সেই অনন্য রেকর্ড টি গড়ে গোটা দেশকে তাক লাগালেন বাগেরহাটের মেয়ে মিরোনা। হ্যাঁ গল্প নয় সত্যি। মিরোনা প্রথম নারী কোচ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন সিটি এফসিতে।
সম্প্রতি ঢাকার এই ক্লাবটি তাদের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ২৬ বছর বয়সী সাবেক এই প্রমীলা ফুটবলারকে।
ফুটবলার হিসেবে পরিচিতি পেলেও মিরোনা তার ক্যারিয়ার শুরু করে অ্যাথলেটিকস দিয়ে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোট ৭ বছর দেশের জার্সি গায়ে সামলেছেন রক্ষণভাগ।
এছাড়াও দেশের বাইরের লীগেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার এ নারী ফুটবলারের। ২০১৪ সালে মালদ্বীপের ঘরোয়া লীগে বাংলাদেশ থেকে যে তিনজন নারী ফুটবলার খেলতে গিয়েছিলেন তার মধ্যে একজন এই মিরোনা।
খেলোয়াড়ি জিবনে মিরোনা অংশগ্রহণ করেছেন এসএ গেমস এবং অলিম্পিক বাছাই পর্বের ম্যাচে।
কোচ হিসেবে মিরোনা ২০১৩ সালে ‘সি’ এবং ২০১৮ সালে ‘বি’ লেভেল সম্পন্ন করেন। মিরোনার এ রেকর্ডের পিছনে তার ভাগ্যের হাত ছিল সু-প্রসন্ন। সিটি এফসি’র কোচ আবু নোমান নান্নু হলেন ‘সি’ লাইসেন্স ধারী। অথচ নিয়ম হলো চ্যাম্পিয়নশীপ লীগের কোচকে অবশ্যই ‘বি’ লাইসেন্সধারী হতে হবে। তাই সে সুবাধে এ সুযোগটি পেয়ে যান মিরোনা।
মেয়ে হয়ে পুরুষ দলের প্রধান কোচ। অনুভুতি জানতে চাইলে মিরোনা বলেন- ফুটবল তো ফুটবল ই। খেলোয়াড় সে হোক ছেলে কিংবা মেয়ে। তাতে কোন সমস্যা নেই। আমার কাজ হচ্ছে অনুশীলন করানো। আর যখন অনুশীলন করাবো তখন আমার মাথায় থাকবে না যে কাদের নিয়ে কাজ করছি। আমি শুধু আমার কাজটা ঠিকভাবে করার চেষ্টা করবো। আমি বিশ্বাস করি- একজন ফুটবলারের সামনে কোচ ছেলে না মেয়ে সেটা কোন বিষয় না। তবে কোচকে সব খেলোয়াড়ের সম্মান দেয়া উচিৎ। তবেই খেলোয়াড়রা শিখতে পারবে।
সিটি এফসি নিয়ে মিরোনা বলেন- আমার লক্ষ্য থাকবে সিটি এফসিকে প্রিমিয়ারে খেলানো। আর এজন্য সব চেষ্টাই করবো আমি।
মিরোনা সম্পর্কে সিটি এফসি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দোজা তুহিন বলেন- মিরোনা খুব মেধা সম্পন্ন মেয়ে। ওর কোচিং করানোর স্টাইল আধুনিক। সে অনেক বুদ্ধিমতী মেয়ে।
উল্লেখ্য, মিরোনা এর আগেও ভারতে কোন এক রাজ্য দলে কোচিং করানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু সঙ্গত কারণেই তা আর করা হয়ে উঠেনি।
মিরোনা ফুটবলের মতো অ্যাথলেটিকস ট্রাকেও ছিলেন সমান দুর্দান্ত। দূর পাল্লার দৌঁড়ে ৮০০, ১৫০০ ও ৩০০০ মিটার জাতীয় আসরে সোনা জিতেছেন তিন ভাই, তিন বোনের মধ্যে তৃতীয় মিরোনা। তাই নিশ্চিতভাবেই বলা যায়- ফুটবল আর অ্যাথলেটিকসের মতো কোচিং ক্যারিয়ারেও সফল হবেন এই প্রতিভাধর নারী।
বাংলা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button