
মো. নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: “বাল্য বিবাহ না বলি, নারীবান্ধব সমাজ গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জে বাল্যবিয়ে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শিক্ষক, কাজী, ধর্মীয় নেতা ও অভিভাবকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২৫ জুলাই (শনিবার) মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আন্ধারমানিক গ্রামে স্থানীয় প্রয়াত সাহেব আলীর বাসভবনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে স্থানীয় নারী উন্নয়ন কমিটি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’।
উপজেলা নারী উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আঁখি আক্তার-এর সভাপতিত্বে এবং বারসিক কর্মকর্তা ঋতু রবি দাস-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ধারণাপত্র পাঠ করেন বারসিক-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী রাশেদা আক্তার।
সভায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং বাল্যবিয়ে বর্তমানে মহামারী রূপ ধারণ করেছে। বাল্যবিয়ে বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি ভুয়া কোর্ট ম্যারেজ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। প্রচলিত আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর তাঁরা বিশেষ জোর দেন।
বক্তারা এলাকায় মাদকের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলেও আইনের ফাঁক গলে তারা সহজেই জামিনে বেরিয়ে আসছে। এছাড়া একশ্রেণীর সুযোগসন্ধানী লোক অভিভাবকদের ভুল বুঝিয়ে ও লোভে ফেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দিতে বাধ্য করে, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের সামাজিক প্রতারণায় রূপ নেয়।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কর্মমুখী ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, স্বামী পরিত্যক্তা অনেক নারী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বয়সের প্রমাণের অভাবে সরকারি নানা আইনি ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যৌথ সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আন্ধারমানিক জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা তাজুল ইসলাম, স্থানীয় মাতবর সুনামুদ্দিন মিয়া, যুব প্রতিনিধি মো. সোহেল রানা, ঘটক মো. কাউসার আলম এবং নারীনেত্রী রিমা আক্তার।




