গুপ্তধন মনে করে রকেট লাঞ্চার ঘরে রেখে দিলেন কৃষক, উদ্ধার করলো পুলিশ

সালথা প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সালথায় গুপ্তধন মনে করে পরিত্যক্ত রকেট লাঞ্চার (বোমা) ঘরে রেখে দেন এক কৃষক। পরে ১৫ দিন পর ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পরিত্যক্ত রকেট লাঞ্চারটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আগুলদিয়া গ্রামের সিরাজ মাতুব্বরের বাড়ি থেকে রকেট লাঞ্চারটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ৬ এপ্রিল সকালে ওই গ্রামের সিরাজ মাতুব্বরের ছেলে সত্তার মাতুব্বরের বাড়ির উঠানে মাটি কাটতে গিয়ে মরিচা ধরা পরিত্যক্ত রকেট লাঞ্চারটি পাওয়া যায়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আগুলদিয়া গ্রামের সিরাজ মাতুব্বরের ছেলে সত্তার মাতুব্বর (২৫) বাড়ির উঠানে মাটি কাটতে গিয়ে মাটির নিচে রকেট লাঞ্চারটি পান। পরে তিনি এটি গোপন করে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়িতে রেখে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে গ্রামের জনৈক পারভেজ মোল্লা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশকে জানান। খরব পেয়ে পুলিশ গিয়ে রকেট লাঞ্চারটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে সত্তার মাতুব্বর বলেন, ১৫ দিন আগে বাড়ির উঠান থেকে রান্নাঘরের জন্য মাটি কাটার সময় ওই জিনিসটি পাই। পরে আমি জিনিসটি চিনতে না পেরে নিজের কাছে রেখে দেই। বিষয়টি কয়েকজনের সাথে আলাপ করার পর তারা সেটি দেখে জানান এটি গুপ্তধন নয়, পরিত্যক্ত রকেট লাঞ্চার (বোমা)। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে সেটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ফারুক মাতুব্বর বলেন, যে স্থান থেকে ওই জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে পাকিস্তান আমলের আগে থেকেই জঙ্গল ছিল। গত প্রায় ৫০ বছর আগে ওখানের জঙ্গল কেটে ফেলা হয় এবং পরবর্তীকালে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয় এবং বসতবাড়ি তোলা হয়। গত প্রায় ১৫ দিন আগে সিরাজ মাতুব্বরের ছেলে সত্তার মাতুব্বর গরুর ঘরের জন্য মাটি কাটার সময় এটি উঠে আসে। পরে জিনিসটি চিনতে না পেরে গুপ্তধন ভেবে নিজের কাছে রেখে দেন।
সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আনিচুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি পুরাতন মরিচা ধরা লোহার তৈরি কথিত রকেট লাঞ্চারের অংশবিশেষ পাওয়া যায়, যা লম্বা অনুমান ১২ ইঞ্চি, চওড়া সামনের অংশ ১০ ইঞ্চি ও পিছনের অংশ ৬ ইঞ্চি, ওজন অনুমান ৪ কেজি, যার উপরে আলাদা খন্ডিত অনুমান ২ ইঞ্চি কাঠের তৈরি ক্লিপ, যার গায়ে ইংরেজিতে 56 E6 #50 লেখা আছে। এটি উদ্ধারপূর্বক থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাদিক বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে রকেট লাঞ্চারটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এটি বহু পুরাতন এবং ব্যবহারকৃত অকেজো। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




