slider

ধামরাইয়ে আবাসন প্রকল্পের এমডির বিরুদ্ধে মামলা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে আকসিরনগর আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে ৩৭টি হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে আকসির নগর কর্তৃপক্ষ। গতকাল বুধবার দুপুরে একটি চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে আকসিরনগর আবাসন প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের বড় কুশিয়ারা, সাচনা ও মাখুলিয়া এলাকায় জমির মালিকদের কাছ থেকে বৈধভাবে জমি ক্রয় করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে আকসিরনগর আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। এ আবাসন প্রকল্প করতে গিয়ে স্থানীয় বদরুল সরদারের নেতৃত্বে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দাবি করেন। এতে রাজি না হলে তারা কিছু সংখ্যালঘুদের জমি দখলের অভিযোগ এনে আকসিরনগর আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পাশাপাশি তারা প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ধামরাই থানায় ১৯টি ও আদালতে ১৮টি মামলা দায়ের করেন। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দীর্ঘদিন তদন্ত করে। এতে উভয়পক্ষের শুনানি এবং প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত করে জোরপূর্বক জমি দখল করে মাটি ভরাটের কোন প্রমাণ পাননি তদন্ত কমিটি। এতে স্বার্থান্বেষীরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রশাসনসহ আকসিরনগর আবাসনের বিরুদ্ধে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন অমূলক বক্তব্য দিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন বদরুল সরদার গং। এমনকি তারা একেক সময় একেকজনকে বাদি করে আকসিরনগর প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে থানায় ১৯টি ও আদালতে ১৮টি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন।
তিনি বলেন, বদরুল সরদার আকসিরনগর আবাসনের অনুকুলে তার শাস্তাপুর মৌজার ৩৫শতাংশ জমি আম-মোক্তারনামা করে দেন ২০১৮ সালের ১৪ জুন। কিন্তু এর আগেই তিনি ওই জমি ৬৮৭৭ নং দলিলমূলে জনৈক সাইফুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে দেন। এ নিয়েও মামলা করেছে তৌহিদুলের নামে। শুধু তাই নয় হাইকোর্টে তিনি একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। এতে রিট পিটিশনের রুলনিশির বঙ্গানুবাদ বিকৃতি করে বদরুল সরদার ঢাকা জেলা (উত্তর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে উপস্থাপন করেন।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফীর গত ২০ আগস্টের প্রতিবেদনে বদরুল সরদারের জালিয়াতির বিষয়টি উল্লেখ করেন। এ রকম জালিয়াতি করে প্রায় ৩৭টি মামলা দায়ের করেন ওই স্বার্থান্বেষী মহল।
তৌহিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ৩৭টি হয়রানিমূলক মামলার সঠিক তদন্ত পূর্বক নিস্পত্তির দাবি জানান সংবাদ সম্মেলনে।
এ বিষয়ে বদরুল সরদার সাংবাদিকদের বলেন, আকসিরনগর আবাসন প্রকল্প এলাকার অনেক নিরীহ মানুষের জমি দখল করে মাটি ভরাট করেছে। তাই আমরা এর প্রতিবাদে আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের নামেও তারা মামলা করেছে।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, আকসিরনগর আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে ১০ জনের আনিত অভিযোগের বিষয়ে ৮ জনের অভিযোগের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং বদরুল সরদার যখন আকসিরনগর আবাসনের পক্ষে ছিলেন তখন তিনি নিজেই দুইজনের জমি ভরাট করেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button