৫ বছরেই কোটিপতি, অবশেষে গ্রেপ্তার
সংবাদদাতা ( কক্সবাজার): কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদকসম্রাট খোরশেদ আলম ওরফে কালা খোরশেদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, হত্যা ও পুলিশের ওপর হামলাসহ প্রায় ছয়টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে শহরের লাইট হাউস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদউদ্দিন খন্দকার এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও পুলিশের সূত্র মতে, শহরের কয়েকজন শীর্ষ মাদককারবারি ও সন্ত্রাসীর মধ্যে কালা খোরশেদ অন্যতম। পাশাপাশি তালিকভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী। তিনি শহরের লাইট হাউস, ফাতের ঘোনা, পাহাড়তলি, কলাতলী ও বাদশা ঘোনার এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত। এক যুগের বেশি সময় ধরে ওই সব এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ মাদক ব্যবসা চালান তিনি। এর মাধ্যমে রাতারাতি মাত্র পাঁচ বছরে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, বর্তমানে কালা খোরশেদের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে ‘কহিনুর রির্সোট’ নামে একটি বিশাল বহুল কটেজ রয়েছে, খাবারের হোটেলসহ প্রায় চারটি বড় দোকান রয়েছে, নামে-বেনামে বিভিন্ন হোটেলে ফ্ল্যাট রয়েছে। সম্প্রতি এই টাকা দিয়ে নিজ এলাকা ফাতের ঘোনায় দুই তলা বাড়িও করেছে তিনি।
এছাড়াও অটোরিকশা, ট্যাক্সিসহ বিভিন্ন গাড়িও রয়েছে। লাইট হাউস, ফাতের ঘোনা ও পাহাড়তলির বাঘঘোনা এলাকায় রয়েছে বেশ কিছু জমিও। এগুলোর বেশিরভাগ জমিই জোরপূর্বক দখল করেন এই সন্ত্রাসী। এছাড়া মাদকের কারবার আড়াল করতে গরুর ব্যবসাও রয়েছে তার।
পুলিশে সূত্র মতে, চিহ্নিত এ মাদককারবারি ও সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলো। এলাকায় ব্যাপক মাদকের বিস্তার হয় তার হাত ধরেই। সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পাশাপাশি মাদকের ব্যবসা চালিয়েছিল ব্যাপকহারে। মাদক ব্যবসা করে তার অল্প সময়ে উত্থান হয়।
এ বিষয়ে ওসি ফরিদউদ্দিন খন্দকার বলেন, ‘পুলিশের তালিকভুক্ত মাদককারবারি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী এ কালা খোরশেদ। ওই রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লাইট হাউস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এখনো পুলিশের অভিযান চলছে। খোরশেদকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’



