
মোঃ আব্দুর রব মনসুর,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে জাম্বুরার কোনো বাগান না থাকলেও কৃষকের বাড়ির আঙিনায় ও বাড়ির আশেপাশের পতিত জমিতে থাকা গাছের পাকা জাম্বুরা হাট-বাজারে বিক্রি করে জাম্বুরার ভালো দাম পেয়ে খুশি ফল চাষিরা ।
এসময় জাম্বুরা বা বাতাবি লেবুর চাহিদা বাড়ছে, কারণ এটি একটি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। জাম্বুরা একটি পুষ্টিকর ও ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ টক-মিষ্টি ফল। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম শক্তি উন্নত করে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে দারুণ কার্যকরী।
স্বাস্থ্য উপকারিতা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: প্রচুর ভিটামিন সি থাকায় এটি সর্দি-কাশি, জ্বর ও সাধারণ সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে।হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য: এতে থাকা ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ হজমশক্তি বাড়ায় এবং পেট পরিষ্কার রাখে।হৃদপিণ্ড ভালো রাখে: পটাশিয়াম ও পেকটিন রক্তচাপ ও খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্ট সুস্থ রাখতে কাজ করে।ওজন নিয়ন্ত্রণ: কম ক্যালোরি ও বেশি ফাইবারযুক্ত হওয়ায় এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে।ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: এর লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।পুষ্টিগুণ ও সুস্বাদু হওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে এর চাহিদা তৈরি হয়েছে। এই ফলটির বেশ কদর ও চাহিদা রয়েছে মানুষের। জাম্বুরা ব্যাবসায়ীরা গ্রামে বাগান মালিকের কাছ থেকে জাম্বুরা ক্রয় করে ব্যবসার জন্য নিয়ে যাচ্ছে এতে ফল চাষিরা ও বেশ লাভবান হচ্ছে।
চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের বরশি ভাঙ্গা গ্রামের সাইদুল ইসলাম বলেন বলেন, গত কয়েক দিনে আমার একটি জাম্বুরা গাছ থেকে প্রায় এক হাজার টাকার জাম্বুরা বিক্রি করেছি। হাট-বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যায় এবং পাইকারিভাবেও ব্যাবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে একেকটি জাম্বুরা ১৫ থেকে ২০ টাকা করে কিনে নিয়ে যায়।কাজিপুরের স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি পিস জাম্বুরা আকার ও মানভেদে প্রায় ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়, তবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন Fb Bazar বা অন্যান্য সূত্র অনুযায়ী এর দাম ৮০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
কাজিপুর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাসিনুর রহমান (ব্লক: কবিহার) জানান,বাণিজ্যিকভাবে জাম্বুরা বা থাই জাম্বুরা চাষে খরচ নির্ভর করে বাগানের আকার ও ব্যবস্থাপনার ওপর। সাধারণত উন্নত জাতের কলম বা হাইব্রিড জাম্বুরা চারা পাইকারি ও খুচরা প্রতি পিস ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যায়। এই চাষে সার, কীটনাশক ও সেচ খরচ তুলনামূলক কম লাগে এবং ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে গাছে ফল ধরতে শুরু করে।চাষের প্রধান খরচ খাতসমূহচারা ক্রয়: উন্নত জাতের হাইব্রিড বা থাই জাম্বুরা চারা প্রতি পিস ৩০০–৫০০ টাকা।জমির প্রস্তুতি ও সার: বেলে-দোআঁশ মাটিতে জৈব সার (গোবর) ও পরিমাণমতো রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয়।সেচ ও পরিচর্যা: নিয়মিত সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা এবং প্রাথমিক কীটনাশক প্রয়োগ।
কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম বলেন, কাজিপুরে জাম্বুরার বাণিজ্যক কোনো বাগান না থাকলেও কৃষকের বাড়ির আশেপাশে বা পতিত জমি, বশত বাড়িতে জাম্বুরার চাষ হয়। কলম করে চারা রোপণ করলে ২-৩ বছরের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। সাধারণত জুলাই থেকে আগস্ট মাসে ফল পাকে এবং বাজারে পাওয়া যায়। কিছু জাতের গাছে বছরের অন্যান্য সময়েও ফল পাওয়া যায়।




