শিবালয়ে তীব্র গ্যাস সংকট

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনসহ বাণিজ্যিক ও আবাসিক ব্যবহারে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। অপরদিকে, ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের আশায় যানবাহনের দীর্ঘলাইন পড়েছে।
জানা গেছে, শিবালয় উপজেলায় দু’হাজারের অধিক আবসিক গ্যাস সংযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ গ্যাস সরবরাহ না থাকলেও গ্রাহকরা নিয়মিত বিল পরিশোধে বাধ্য হচ্ছে। বাণিজ্যিক গ্রাহকদের অবস্থা আরো নাজুক। গ্যাসনির্ভর ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানাগুলোতে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিক-কর্মচারীরা জানান, গত ২২ আগস্ট থেকে বিশেষ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গোলড়া থেকে শিবালয়ের মুশুরিয়া পর্যন্ত ১৪টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে টানা তিন দিন যাবৎ গ্যাস সরবরাহ না থাকায় যানবাহন মালিক-শ্রমিক, যাত্রী সাধারণ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
সিএনজি চালিত যানবাহন মালিক সমিতির নেতারা জানান, শিবালয় উপজেলার বরংগাইল-টাঙ্গাইল, উথলী-জাফরগঞ্জ, টেপড়া-মাচাইন, ক্রসব্রিজ-ঝিটকা, সদরবাসস্ট্যান্ড-সাটুরিয়া-বালিরটেক প্রভৃতি রুটে অন্তত ৫ হাজার সিএনজি অটো-রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিয়মিত চলাচল করে।
আফগান হোসেন নামে সিএনজি চালক জানান, সিলিন্ডার ব্যতীত বিকল্প ট্যাংকি না থাকায় গ্যাস চালিত সিএনজি-অটোরিকশা, বাস, ট্রাকসহ অন্যান্য যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অনেকে সিএনজি স্টেশন বা অন্যত্র অটো-রিকশা রেখে দিনরাত পাহারা দিচ্ছে। সিএনজিচালিত হালকা যান চালাতে না পারায় অনেকের ঋণের বোঝা ক্রমেই ভারী হচ্ছে।
স্থানীয় আবাসিক গ্রাহক মীনা ইসলাম অভিযোগের সুরে জানান, রান্না-বান্নার কাজে সময় মতো প্রয়োজনীয় গ্যাস না মিললেও নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ তিতাস গ্যাস উপ-ব্যবস্থাপক শাকিল মন্ডল জানান, ঢাকার ধামরাইসহ মানিকগঞ্জ অঞ্চলে ২৫ হাজার আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক রয়েছে। ধামরাইয়ে ৫ হাজার, সাটুরিয়ায় আড়াই হাজার, মানিকগঞ্জ সদরে ৪ হাজার, শিবালয় উপজেলাসহ অন্যান্য স্থানে বাকী সংযোগ রয়েছে। গ্যাস উৎপাদনকারী কোম্পানী সেভরন, বাপেক্স ও অন্যান্য ফিল্ড থেকে সরবরাহের উপর এসব এলাকায় গ্যাসের চাপ বা প্রাপ্তির পরিমাণ নির্ভর করে। আশুলিয়া থেকে এ এলাকার গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা হয়।



