শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: আটরশিয়া থেকে আসা জাহিদ হাসান নামে এক রোগী জানান, ইমারজেন্সী বিভাগের ডা: সাইফুল ইসলামমের কাছে চিকিৎসা করালাম। তিনি আলট্রাসোনা করাতে বললেন। কিন্তু এখানে আলট্রাসোনা মেশিন না থাকায় একজন মহিলা আমাকে নিয়ে একটি বেসরকারী ক্লিনিকে নিয়ে গেলো । সেখানে এক হাজার টাকা দিয়ে আলট্রাসোনা করালাম। একই ধরনের কথা জানালেন রামচন্দ্রপুর এলাকা থেকে আসা খালেদা বেগম, সাহাপাড়া থেকে আসা সায়েমা বেগম সহ আরো অনেক রোগী। প্রায় আট লাখ মানুষের জন্য একমাত্র সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ৫০ শয্যাবিশিষ্ট শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হওযায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে সেবামূলক কার্যক্রম। এখানে দালাদদের দৌরাত্ম, ্ঔষধ কোম্পনীর প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম, বিভিন্ন পদে জনবল সংকট, ঔষধ, এ্যাম্বুলেন্স সংকটের কবলে স্বাস্থ কমপ্লেক্সটি যেন সমস্যায় হাবুডুবু খাচ্ছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের রোগ নির্ণয় ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতির সংকটের কারণে রোগ নির্ণয় ক্ষেত্রে বাহির থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
সরজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশেপাশে নিবন্ধন ও অনিবন্ধনিত ক্লিনিক থেকে আগত নারী পুরুষ মিলে প্রায় ১৫/১৬জন রোগী ধরা দালাল রোগী ধরা নিয়ে ব্যস্ত। দালালদের মধ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রায় ৪/৫জন কর্মচারী রয়েছেন বলে জানা গেছে। দালালদের কাজ হলো রোগীদের ফুসলিয়ে বাইরে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া, পরীক্ষা নিরীক্ষা বাইরে করানো । বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকে বাদ দিয়ে বাইরে চিকিৎসককে চিকিৎসা করানো ইত্যাদি। বিনিময়ে তারা দিনে শেষে রোগী অনুপাতে ক্লিনিকের মালিকের নিকট হতে কমিশন বুঝিয়ে পায়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জুড়ে প্রায় ৫০খানা অটো দাঁড়ানো। কেউ যাচ্ছে,কেউ আসছে। যা দেখে মনে হচ্ছে অটো স্ট্যান্ড। চিকিৎসকদের চেম্বারে ও বাইরে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের ভীড়। কেউ প্রেসক্্িরপশন দেখা নিয়ে ব্যস্ত, কেউ কেউ চেম্বারে উপঢৌকন নিয়ে চিকিৎসকের পাশে সারিবদ্ধ ভাবে দাড়িয়ে আছে। স্টোর রুমের সামনে দাঁড়িয়ে ্ঔষধ নেয়া একজন রোগী জানান এখানে যতই জটিল রোগ হোক না কেন শুধু প্যারাসিটামল,হিসটাসিন, হোস্টাসাইক্লিন, মেট্রোনিডাজল ও ওর স্যালাইন সহ মাত্র কয়েক ধরনের ্ঔষধ মাত্র ৪/৬ টি করে ট্যাবলেট দিচ্ছে। এর বেশী নয়।
নাম প্রকাশে কয়েকজন ভর্তি থাকা রোগী জানান চিকিৎসকরা শুুুধু প্রেসক্্িরপশন করে দিচ্ছে,ঔষধ বাহিরের দোকান হতে নিতে হচ্ছে। শুধু তাই নয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর মধ্যে কয়েকখানা বেসরকারী এ্যাম্বুলেন্স দাঁড়ানো আছে। সারি সারি কয়েকটি ডাব, চিনাবাদাম,সহ বিভিন্ন খাদ্র দ্রব্যের দোকানে রীতিমত হাট বাজারের মত বেচাকেনা চলছে। শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জনবল সংকটেও ভুগছে। এখানে ২৮১ পদের মধ্যে ৮৮জনের পদ শুন্য রয়েছে। মেডিকেল অফিসার পদে ৫১ পদের মধ্যে ইএনটি,অর্থপেডিক্স, গাইনি,চক্ষ, আবাসিক, সহকারী সার্জন ডেন্টাল সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মোট ২৮জন। দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মচারী পদে ৩৮জনের দুইজন,তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী পদে ১৫৭জনের মধ্যে ৪৫জন, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদে ৩৫ জনে ১৩ জনের পদ শুন্য রযেছে।তাছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র একটি এ্যাম্বুলেন্স,যা রোগীর তুলনায় নগণ্য। এখানে কোন, আলট্রোসোনা,সেল কাউন্টার,সাকশন মেশিন ডেন্টাল ইউনিট, এসি মেশিন অটো ক্লাভ মেশিন ও ফ্রিজ নেই।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: মো:নাজির উদ্দিন জানান, জনবল সংকটের পূরনের জন্য প্রতিমাসেই প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। কিছু কিছু পূরণ হয়েছে। বাকীগুলো জরুরী ভিত্তিতে হয়ে যাবে। ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধি,দালাল চক্র, অটো যানবাহনের অবস্থান সিসি ক্যামেরা দেখে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তৎক্ষণাৎ আনসার বাহিনী দিয়ে বের করে দেন এবং বলেন এগুলো প্রতিকারের জন্য জোর চেষ্টা চলছে । প্রযোজনে আইননুগ ব্যবস্থা গ্রহন করাহবে। তিনি আরো বলেন আমরা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আলট্রাসোনাগ্রাফী মেশিন একটি, সেল কাউন্টার মেশিন একটি,ইসিজি মেশিন তিনটি,এসি মেশিন চারটি, ও ফ্রিজ দুটির জন্য আবেদন করেছি।




