শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: শিবগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এ,এস,এম ওয়াহিদুজ্জামান এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দূর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গত ১৮-০৬-২০২৬খ্রী:তারিখে ১০জন ভুক্তভোগীর স্বাক্ষরিত ও গত ২২-০৬-২০২৬খ্রী: তারিখে দপ্তরি ও শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরিত ্শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কিশোর–কিশোরী ক্লাব স্থাপণ প্রকল্পের উপজেলা সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ ও অন্যান্য কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে কিশোর কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের আওয়তাধীন ক্লাব শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা প্রদানে অনিয়ম করেছেন। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ক্লাব শিক্ষকদের চরম ভাবে লাঞ্চিত করেছেন। সূত্র মতে সারা বাংলাদেশে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত ৪৮৮৩টি কিশোর কিশোরী ক্লাব পরিচালিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় শিবগঞ্জ উপজেলায় ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ১৬টি ক্লাব পরিচালিত হচ্ছে। কিশোর–কিশোরী ক্লাবের শিক্ষকগণ জানান গত মার্চ মাসে শিবগঞ্জ উপজেলায় ক্লাবের নাস্তা বরাদ্দ আসে ৭২ হাজার টাকা উত্তোলন করলেও তিনি ১৬টি ক্লাবে নাস্তার খরচ বাবদ দিয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮০ টাকা।অবশিষ্ট ২৭ হাজার ৩২০ টাকা সরকারি কোষ্াগারে ফেরত না দিয়ে তিনি তার কাছে রেখে দেন। উপরোক্ত টাকার বিষয়ে ক্লাবের শিক্ষকগণ জানতে চাইলে তিনি তাদের সাথে অসদাচরণ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকী দেন।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাজহারুল ইসলামকে মৌখিখভাবে অবহিত করলে তিনি সব শুনে জরুরীভাবে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসারকে তলব করে এপ্রিল ও মে মাসের নাস্তার পূর্ণাঙ্গ টাকা নিয়মমাফিক শিক্ষকদেরকে প্রদানের নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি এ নির্দেশ উপেক্ষা করে শুধু মাত্র এপ্রিল মাসের চার সপ্তাহের নাস্তার খরচ বাবদ ক্লাব প্রতি ৪৮০০ টাকার স্থলে ৪৪০০ টাকা করে প্রদান করেন । বাকী ৬৪০০াকা নিজের কাছে রেখে দেন। এবং মে মাসের টাকা পরবর্তীতে দেয়া হবে বলে জানান। কিন্তু মে- জুন মাসের মাসের ১৬টি ক্লাবের সদস্য বা শিক্ষার্থীদের নাস্তার জন্য বরাদ্দকৃত নাস্তার খরচ বাবদ প্রদান করেন নাই। বরং ক্লাব শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ করেই চলেছেন এবং বিভিন্ন ভাবে হয়রানীর চেষ্ট্ াকরছেন বলে শ্ক্ষিকদের অভিযোগ।
সুত্রে মতে গত ১৮জুন কিশোর কিশোর ক্লাব ম্যানেজমেন্টের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে সবাইকে না ডেকে সভাটি করা হয়েছে। যেখানে ক্লাবপ্রতি বরাদ্দ ছিল ৩৬০০টাকা। মোট বরাদ্দ ছিল ৫৭৬০০/-টাকা। সভাতে উপস্তিত অনেককেই সম্মানী দেননি বলেও জানা গেছে। শুধু তাই নয় ১২-০৬-২০২৬ তারিখে তিনি মোবারকপুর নিরালা গুচ্ছ গ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থিত কিশোর-কিশোরী ক্লাবে পরিদর্শনে গিয়ে ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি নাজরিন বেগমের সাথে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন এবং অসদাচরণ করেন।
অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের সহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সাথে অসদাচরণ করেন বলে জানা গেছে। ঘটনায় বিচার চেয়ে ওই মহিলা গত ২২-০৬-২০২৬ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আরো একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
অন্যদিকে শিবগঞ্জ পৌরসভা কিশোর-কিশোরী ক্লাবের প্রবীন শিক্ষক নুরুন নাহার বেগম জানান আমি নিয়মমাফিক ক্লাশ করার পরও সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিষার আমার একদিনের বেতন কর্তন করেছেন। আমি এর বিচার চাই।
এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার ্এ এস এম ওহিদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগের জন্য মুঠো ফোনে বার বার চেষ্টা করেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো:মাজাহারুল ইসলাম বলেন দুটি অভিযোগই পেয়েছি। এখনো কাজ শুরু করিনি। তিনি আরো বলেন যেহেতু এটি প্রকল্পের কাজ সেহেতু ভুক্তভোগীদের প্রকল্পের পরিচালকের সাথে কথা বলতে বলেছি।




