
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: মাস্টার্স পাশ করে চাকুরীর পিছনে না ছুটে প্রায ৪২ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেই স্বাবলম্বী হওযার আশা তরুন কৃষক জজম আলির। অনেকটা সফলও হযেছেন তিনি। জজম আলি হলো জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের আব্বাস বাজার এলাকার বাদশাহ আলির ছেলে।
তিনি বলেন আামি মাস্টার্স পাশ করে চাকুরীর খোঁজে গিযে দেখলাম মামা খালুর পাশাপাশি মোটা অংকের টাকার প্রযোজন। তাই আমি এত টাকা দিযে চাকুরীর পিছনে না ছুটে সিদ্ধান্ত নিলাম নিজে কৃষি কাজ করেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবো। তাই আমি শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার নয়ন মিঞার সাথে পরামর্শ করে উৎসাহ পেযে টমেটো চাষের সিদ্ধান্ত নিই। শুরু করি পরিকল্পনা। হিসাব করে দেখি অনেক টাকার দরকার এবং ভাল জমির দরকার। তাই আমি আরো চারজন তরুন কৃষকের সাথে আলাপ করে খোঁজ খবর নিয়ে মনাকষা ইউনিয়নের সাহাপাড়া মাঠে বাৎসরিক ১৯ হাজার টাকা বিঘা দরে এক বছরের জন্য ৪২ বিঘা জমি বর্গা নিই। জমি চাষ, চারা ক্রয় ও রোপন,মাচা তৈরী সহ সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৬০ লাখ টাকা খরচ করেছি। উল্লেখ্য যে আমাদের এ টমেটোর জমিতে প্রতিদিন প্রায় ৪০/৪৫ জন বেকার যুবক কাজ করে। তাদের আয় হয প্রতিদিন পাঁচ শ টাকা করে। তারা আরো প্রায দুই মাস কাজ করার সুযোগ পাবে। শুরু করি টমেটো চাষের কাজ। গত অক্টোবর মাসে জমি চাষ শেষে টমেটোর চারা রোপণ করি। মাত্র দু মাসের ব্যবধানে টমেটো ধরা শুরু করে। তিনি বলেন গত ডিসেম্বর মাস থেকে টমেটো তুলে বিক্রী করা শুরু করেছি। গত দেড় মাসে প্রায় ৪৫/৪৬ লাখ টাকার টমেটো বিক্রী করেছি। এবার আবহাওয়া অনুকুল হওযায় সামনে আরো প্রায দুই মাস টমেটো প্রচুর ধরবে এবং বিক্রী করতে পারবো।
গত রবিবার সরেজমিনে তার টমেটোর জমিতে গিযে কথা হয় তার সাথে। তিনি এ সময় বলেন আমরা শিক্ষিত বেকার যুবকরা না বুঝে শুধু চাকুরীর পিছনে ছুটাছুটি করি। চাকুরী না পেযে হতাশায় নিমর্জ্জিত হয়ে অনেকেই মাদকাসক্ত হয়ে জীবনটা ধংস করছে। আমাদের শিবগঞ্জের জমি এত উর্বর যে যেকোন ফসলের ফলন অনেক বেশী হয়। তাই আমি প্রমান করতে চাই কৃষি কাজের মধ্যে যেমন আনন্দ আছে তেমন রযেছে সৎ জীবন যাপন।
সরেজমিনে দেখা গেছে টমেটোর জমিতে সহ গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে কাঁচা ও পাকা টমেটো। চোখ জুড়ানো সবুজ ক্ষেতজুড়ে লাল আভায় ভরে উঠেছে।
তিনি আরো বলেন বাকী পুঁিজ কিছু দিনের মধ্যে উঠে আসেবে ্মৌসুম শেষে খরচ বাদে প্রায ৪০ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করতে পারবো বলে আশা করছি।
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো: নয়ন মিঞা বলেন চলতি মৌসুমে শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৪২৫ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে। জজম আলির টমেটোর জমিতে গিযে আমরা খুব খুশী হযেছি এবং তাকে সব ধররেন পরামর্শ ও সহযোগিতার আশ্বাস দিযেছি এবং যতটকুক সম্ভব সহযোগিতা করেছি। তিনি আরো বলেন বর্তমানে শিবগঞ্জে শিক্ষিত অনেক বেকার যুবক টমেটো চাষে ঝুঁকছে। কারণ টমেটো চাষে স্বল্প সমযে অধিক মুনাফা অর্জন করে স্বাবলম্বী হতে পারছে।




