মাধবকুণ্ড পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেবার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে মৌলভীবাজারের বড়লেখার মাধবকু- জলপ্রপাত অবলোকন করতে গিয়ে তালাবদ্ধ ফটক থেকেই গত ২ দিনে ফিরে গেলেন অন্তত ৬ হাজার নারী-পুরুষ পর্যটক। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি না জানায় আগত পর্যটককে তাই ফিরে যেতে হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পর্যটকরা ঈদের দিন সোমবার (২৬ জুন) বিকেলে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। ক্ষোভে তারা উত্তেজিত হয়ে ইকোপার্কের টিকেট কাউন্টারে ভাংচুর চালান। দেশের অন্যতম এ পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেয়ার দাবিতে আগত ভ্রমণপিপাসুরা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন। এ সময় রোষানলে পড়ার আশংকায় ইকোপার্ক এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্তব্যরত পর্যটন পুলিশও সটকে পড়ে।
সূত্র জানায়, গত ১৭ জুন উপজেলার সর্বত্র ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে জলপ্রপাতের রাস্তায় ফাটল, যাতায়াতের সিঁড়ির নিচের মাটি দেবে যাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন গত ২১ জুন থেকে মাধবকু-ে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে দেশের অন্যতম এ পর্যটন এলাকাটি। কিন্তু ঈদের ছুটিতে নিজেকে প্রকৃতির মাঝে বিলিয়ে দিতে হাজার হাজার পর্যটক ছুটে যাচ্ছেন সেখানে। ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে অনেকে প্রধান ফটকের সম্মুখে সেলফি তুলেই বিফল মনোরথে ফিরে যান।
গত ২৬ জুন দুপুর ও বিকেলে এবং পরের দিন সকালে সরেজমিনে গেলে ইকোপার্কের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ থাকতে দেখা যায়। এ সময় জলপ্রপাত দেখার জন্য ভেতরে প্রবেশ করতে শত শত পর্যটক ভীড় জমান। এ নিয়ে পর্যটকের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পর্যটন পুলিশের দায়িত্বরতদের হিমশিম খেতে দেখা গেছে।
ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে সিলেট থেকে আসা আগত কলেজ শিক্ষার্থী রুবেল হোসাইন, হিফজুর রহমান, শামীম আহমদ প্রমুখ অভিযোগ করেন, সংস্কার কাজের দোহাই দিয়ে পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ার কোনো যুক্তি ছিলো না। বনবিভাগের এ মনগড়া সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে পর্যটকের জন্য ইকোপার্কের তালা খুলে দেয়ার জোর দাবি জানান তারা। এ দাবিতে স্থানীয় ব্যসবায়ীদের নিয়ে আগতরা মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন মঙ্গলবার বিকেলে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় বনবিভাগ ইকোপার্ক থেকে বছরে ৩০-৩৫ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। ঈদের আগে ও পরে ১০-১৫ দিন হাজার হাজার পর্যটক আনন্দ উপভোগ করতে এখানে প্রকৃতির সান্নিধ্যে ছুটে আসেন। সম্প্রতি ভারী বর্ষণে জলপ্রপাত এলাকার রাস্তায় সামান্য ফাটল আর অল্প দেবে যাওয়া মেরামতে বনভিবাগ চরম উদাসীন। দেশের প্রত্যন্ত অঝ্চল থেকে আগত পর্যটকদের দুর্ভোগের বিষয়টি তারা মোটেও চিন্তা করেননি। কোনো ধরণের পূর্ব প্রস্তুতিও নেয়নি কর্তৃপক্ষ। বর্ষাকালে অতীতেও জলপ্রপাত এলাকার রাস্তা বিধ্বস্ত হয়েছে। কিন্তু ইকোপার্ক বন্ধ করার মতো ঘটনা ঘটেনি। নজিরবিহীন এ ঘটনা মাধবকু- ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেন পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
মাধবকু- পর্যটন পুলিশের ইনচার্জ এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানান, গেট বন্ধ করে দেয়ায় গত ২১ জুন থেকে পর্যটকরা নানা বিশৃক্সক্ষলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাচ্ছে। ঈদের দিন ব্যাপকসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে। কিন্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকায় পুলিশ তাদেরকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। নিজেরও কষ্ট লাগছে অনেক দূর থেকে হাজার হাজার টাকা খরচ করে আসার পর গেট থেকেই তাদেরকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।
বনবিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঈদ উপলক্ষে শ্রমিক না থাকায় সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে। কাজ শেষে অভ্যন্তরীণ রাস্তা পর্যটকের চলাচলের উপযোগী করেই ইকোপার্কের গেট খুলে দেয়া হবে। সুত্রঃ নয়া দিগন্ত




