মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার জন্য ইরান নয় যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী : জন কেরি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার জন্য শিয়া অধ্যুষিত ইরান নয় কেবল যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী বলে মনে করছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে চুক্তিভঙ্গ করেছে বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অঞ্চলটিতে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়; এর একমাত্র কারণ পরমাণু সমঝোতা থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের বেরিয়ে যাওয়া। যার জন্য কেবল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই দায়ী।’
সৌদির তেলক্ষেত্রে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলায় অঞ্চলটিতে সৃষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি এবং অবস্থানের মারাত্মক অভাব দেখা দিয়েছে। যা কখনোই কারও কাম্য নয়।’
মার্কিন গণমাধ্যম ‘সিবিএস নিউজ চ্যানেল’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেরি আরও বলেন, ‘আমরা তেহরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে এসে দেশটির বিরুদ্ধে একের পর এক অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করেছি। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তা আগে থেকেই প্রত্যাশিত ছিল। তবে এর ফল খুব বাজেভাবে দেখা দিবে।’
এর আগে ২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি কমানোর জন্য তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেতৃত্বে বিশ্বের ক্ষমতাধর ছয় দেশের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছিল। যেখানে শর্ত ছিল ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি কমিয়ে আনবে, যার বিনিময়ে তাদের উপর আরোপিত সকল অবরোধ ক্রমশ তুলে নেওয়া হবে। এতে চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি।
যদিও পরবর্তীতে গত বছরের ৮ মে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়ে একে একটি অকার্যকর চুক্তি বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি তেহরানের তেল বিক্রিতে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেন; যা এখনও অব্যাহত আছে।
পরবর্তীতে এসবের প্রেক্ষিতে তিনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’, বি-৫২ বোমারু বিমান এবং এফ-২২ জঙ্গি বিমান মোতায়েন করে। যারা এখনো সেখানেই মোতায়েন আছে।




