বালিয়াটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস হয় জীর্ণ বারান্দায়

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবন মেরামত না করার কারণে কখনো খোলা আকাশের নিচে, কখনোবা জীর্ণ বারান্দায় ক্লাস করতে হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীদের। গত এপ্রিল মাসে কালবৈশাখী ঝড়ে স্কুল ভবনের চালের টিন উড়িয়ে নেয়ার পর থেকেই ৩ মাস যাবৎ রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে এভাবেই ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। এজন্য কর্তৃপক্ষের উদাসিনতাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট অবিভাবকরা।
বালিয়াটী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম জানান, বালিয়াটী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনার মান ভাল হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের চাপ বেশি হয়। আশপাশের গ্রামে বিদ্যালয় থাকার পরও আমার বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করান সচেতন অবিভাবকরা।
সাটুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাবেরা সুলতানা জানান, এ বিদ্যালয়টি ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হযেছে। আঁধাপাকা দুটি টিনসেট ভবনের বয়স হয়েছে ৯৯ বছর। বালিয়াটী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের মধ্যে দুটি টিনসেট ভবন ৫ বছর আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক জানান, অবকাঠামো ব্যবস্থা না থাকায় ম্যানেজিং কমিটির নির্দেশে ওই পরিত্যাক্ত ভবন এবং বারান্দায় ক্লাস নিতে হচ্ছে।
টিন শেড ভবনের দেয়াল বিশাল বিশাল ফাটল ও উপরে টিন না থাকায়, বারান্দায় ক্লাস নেওয়ার কারণে বৃষ্টির মৌসুমে বৃষ্টিতে ভিজে ক্লাস করতে হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংক্ষা ৭১০ জন। ক্লাশ রুম আছে ১০টি। এরমধ্যে পরিত্যাক্ত ভবনে নেয়া হয় ৭টি ক্লাস। উত্তর পাশের পরিত্যাক্ত ভবনের ৪ রুমে সবগুলোতেই পানি পড়ে। পশ্চিম পাশের ভবন ঝড়ে উড়িয়ে নেয়ার কারণে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নেয়া হয় শিশু শ্রেণী ও ক্লাস ওয়ানের। এ বছর নতুন একটি ভবন হওয়ার আশ্বাস দিলেও নতুন ভবন হয়নি বলে জানান প্রধান শিক্ষক।
৫ম শ্রেণীর পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর পিতা প্রেমানন্ধ সরকার জানান, সাটুরিয়া উপজেলার মধ্যে একটি মাত্র মডেল স্কুল বালিয়াটীতে। স্কুল অনেক পুরানো হওয়ায় অবকাঠামো গুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ৩ মাস ধরে শিক্ষার্থীদের বারান্দায় ক্লাস করালেও এখনও কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি।
বালিয়াটী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: রুহুল আমীন জানান, বালিয়াটীতে নামেই মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে বারান্দায় ক্লাস করাতে হয় এমন অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু সরকারিভাবে সংস্কার করার কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাবেরা সুলতানা বলেন, বালিয়াটী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে আমি লিখিতভাবে পেয়েছি। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। খুব দ্রুত বিষয়টি আমলে নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মোহাম্মদ হাসান ফয়জী/নয়া দিগন্ত




