
পতাকা ডেস্ক: চাঁদাবাজি, দখলবাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
আজ রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, যে ধরনের অর্থনীতি গড়ার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে চাঁদাবাজি থাকলে কখনোই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হতে পারে না।
তিনি অভিযোগ করেন, তৈরি পোশাক শিল্পকেন্দ্রিক অঞ্চল সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নরসিংদী ও চট্টগ্রামে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, নগদ চাঁদাবাজি ও দখলবাণিজ্য এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সংবাদ নিয়ন্ত্রণের পরও যেসব তথ্য প্রকাশ্যে আসছে, তাতে প্রতীয়মান হয়,সরকারদলীয় প্রভাবশালী মহল এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের মামলায় জড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।
ফুয়াদ বলেন, রাজনৈতিক দলকে সত্যিকারের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আগে দলকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত করতে হবে। দলের ভেতরে সংস্কার ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম অঙ্গীকারই ছিল এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কার।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি একসময় হাজার হাজার নেতা-কর্মীর পদ-পদবি স্থগিত করে বলেছিল, ফৌজদারি অপরাধের বিচার তারা করতে পারবে না। কিন্তু এখন ক্ষমতায় থেকেও নিজেদের অপরাধী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিশ বছরের রাজনৈতিক রোজাদারদের ইফতার খানা-পিনার ব্যবস্থা জনগণের টাকায় চলতে পারে না।
মিরপুরে একটি মাজারকে কেন্দ্র করে ৪০০ দোকানের মালিকানা নিয়ে সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে পুরো বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে এবং গণমাধ্যমও বাস্তবতা এড়িয়ে গেছে।রাষ্ট্র বিচার করছে না বলেই মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবকিছু জানলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পাশাপাশি তিনি মিরপুরের শিশু রামিসা হত্যার প্রতিবাদ ও দুঃখ প্রকাশ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফুয়াদ বলেন, কয়েক মাস সংবিধান পড়া বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর দিন। মন্ত্রণালয়কে কার্যকর করুন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কথা ও কাজে মিল থাকতে হবে। দলীয় বিবেচনায় পোস্টিং বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, হকারদের কার্ড দেওয়ার নামে চাঁদাবাজি চলছে এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা গণঅভ্যুত্থানের পথই প্রশস্ত করবে। টেলিভিশন দখল করে নিজেদের পছন্দের লোক বসিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা কার্যকর হবে না। আওয়ামী লীগও একই চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে পারেনি,বলেন তিনি।
র্যাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-ও একসময় র্যাব বিলুপ্তির কথা বলেছিলেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রশ্ন ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় শুধুমাত্র নাম পরিবর্তন করে সমস্যার সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, শ্রমিক বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া,স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, গাজীপুর মহানগরের সদস্য সচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, মশিউর রহমান মিলু,ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুব পার্টির আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান, মুন্সিগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নুরুজ্জামান শেখ,রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, বরিশাল জেলার নেতা জাকির হোসাইন এবং ইমরান সরদার।




