Uncategorized

বদরগঞ্জে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মেশিনে ডিম ফুটিয়ে হাঁস মুরগি পালন

রাহুল সরকার : রংপুরের বদরগঞ্জে লাভজনক হওয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইনকিউবেটর দিয়ে ডিম ফুটিয়ে হাঁস মুরগি পালন। আর স্থানীয়ভাবে ওই মেশিন বানিয়ে বাড়তি উপার্জনের পথ বের করেছেন যুবক রাশেদুল হক। একারণে পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দ্রুত গতিতে গড়ে
উঠেছে ২৫টির মতো এ ধরণের খামার।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরশহরের শাহাপুর এলাকায় গড়ে উঠেছে এ ধরনের দু’টি খামার। একটির মালিক আবুল কাশেম। তিনি এর আগে বাজারের ব্রয়লার মুরগির খুচরা মাংস বিক্রেতা ছিলেন। করোনা দূর্যোগে তার ওই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। তাই তিনি বাধ্য হয়ে জীবন বাঁচাতে নিজ বাড়িতে একসঙ্গে ১০ হাজার ডিম ফুটানোর মেশিন(ইনকিউবেটর) বসিয়েছেন। একই এলাকার এনামুল হক আগে থেকেই হাঁস-মুরগি পালন করতেন। সম্প্রতি তিনিও নিজ বাড়িতে বসিয়েছেন এক সঙ্গে পাঁচ হাজার ডিম ফুটানোর মেশিন। শুধু তাই নয়, উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের লালদীঘির হাবিব, রিপন, কালুপাড়া ইউনিয়নের ¯^াধীন, দামোদরপুর ইউনিয়নের আসমতপাড়ার মেনহাজুল, রামনাথপুর ইউনিয়নের ঝাকুয়াপাড়া এলাকার পীর মামুনসহ উপজেলায় অন্ততঃ ২৫ জন যুবক শুরু করেছেন একাজ। আবুল কাশেম বলেন, লক ডাউনে আমার আগের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে আমার আয়ের পথও বন্ধ হয়ে যায়। তখন বাধ্য হয়ে জীবন বাঁচাতে আমি একাজ শুরু করি। এটি একটি লাভজনক পেশা। তবে এতে শ্রম দিতে হয় ও যতœশীল হতে হয়। এনামুল হক বলেন, আমি পাঁচ হাজার ডিম ফুটানোর মেশিন বসিয়েছি। হাঁস, মুরগি ও কোয়েল পাখির ডিম ফুটাচ্ছি। এখানে ফুটানো হাঁসের বাচ্চা দিয়েই আমি আমার হাঁসের খামার করেছি।
এ দু’খামারি জানান- ডিম ফুটানোর মেশিনগুলো তারা সংগ্রহ করেছেন স্থানীয় যুবক রাশেদুল হকের মাধ্যমে। তিনিও ওই এলাকার বাসিন্দা। জানা গেছে- বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থানীয় উদ্যোক্তারা এসে রাশেদুলের কাছ থেকে ইনকিউবেটর নিয়ে যাচ্ছেন। এব্যাপারে জানতে চাইলে রাশেদুল হক আকন্দ বলেন, কবুতর পালনের শখ থেকে কবুতরের ডিম সংগ্রহ এবং ডিম ফুটানোর মেশিন বানিয়েছিলেন প্রথম। তারপর কবুতরের ডিমের সঙ্গে যুক্ত হয় হাঁস, মুরগি ও কোয়েল পাখির ডিম। তিনি বলেন, খুব সহজে ও কম খরচে হাঁস, মুরগি বা কোয়েল পাখির ফুটিয়ে বাচ্চা পালন করে খামারিরা অধিক লাভবান হচ্ছেন। তাই অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ায় নিজেকে সফল বলে মনে করি। তিনি আরো বলেন, ইনকিউবেটরে ডিম ফুটানোর দু’টি ধাপ রয়েছে। মুরগীর ডিম থেকে বাচ্চা ফুটাতে সময় লাগে ২১ দিন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে রাখতে হয় ১৮ দিন এবং দ্বিতীয় ধাপে রাখতে হয় তিন দিন।
এছাড়া হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটাতে সময় লাগে ২৮ দিন। প্রথম ধাপে সময় লাগে ২৫দিন ও দ্বিতীয় ধাপে তিন দিন। এর পাশাপাশি কোয়েল ও কবুতরের ডিম থেকে বাচ্চা বের হতে সময় লাগে ১৭ দিন। প্রথম ধাপে সময় লাগে ১৪দিন ও দ্বিতীয় ধাপে তিনদিন। প্রথম ধাপে ডিম মাঝে
মাঝে ঘুরিয়ে দিতে হয়। এরপর ডিম থেকে বাচ্চা বের হলে ব্রæডারে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় রাখতে হয়। তবে স্মরণ রাখা ভালো- গ্রীষ্মকালে ৫-৭ দিন আর শীতকালে ১৫ দিন সময় লাগে। তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, হাঁসের বাচ্চার বয়স এক মাস না হওয়া পর্যন্ত পানিতে ছেড়ে না দেয়াই ভাল। তিনি এর সাথে যোগ করে বলেন, মোরগের সঙ্গে ক্রস করিয়ে লেয়ার মুরগির ডিম থেকেও বাচ্চা সংগ্রহ সম্ভব। একাজটিও উদ্যোক্তারা করতে পারেন বলে এ প্রতিনিধিকে জানান।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, বদরগঞ্জ উপজেলায় এই হ্যাচিংটা ছিল না। খামারিরা বাচ্চা নিয়ে আসতো বাইরে থেকে। এখন যেহেতু এলাকাতেই বাচ্চা উৎপাদন হচ্ছে সেহেতু আশা করা হচ্ছে খুব দ্রুতই খামার সম্প্রসারিত হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে হাঁসের খামারের সংখ্যা প্রায় ১শ’ পূর্ণ হয়েছে। তাই বলা যায়, খামারে ইতিবাচক বিপ্লব শুরু হয়েছে বদরগঞ্জ উপজেলায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button