পতাকা ডেস্ক: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর জুলাই পদযাত্রার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, হবিগঞ্জে একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মারধর, গাড়িবহরে ভাঙচুর এবং মোবাইল ফোন, ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম লুটের ঘটনা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ওপর আক্রমণ নয়; এটি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ওপর প্রকাশ্য ও নগ্ন আঘাত। এতে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা জড়িত মর্মে সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়। এ হামলায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এমনকি একজন স্কুলে পড়া শিক্ষার্থীর চোখে রড ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।
নেতৃদ্বয় বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো,রাষ্ট্রীয় স্থাপনা হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসের অভ্যন্তরে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এ ধরনের হামলা, ভাঙচুর হয়েছে। এ ঘটনা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মোকাবিলা হতে হবে যুক্তি, নীতি এবং জনগণের রায়ের মাধ্যমে; লাঠিসোঁটা, হামলা কিংবা সন্ত্রাসের মাধ্যমে নয়। বিরোধী মতকে ভয়ভীতি ও সহিংসতার মাধ্যমে দমন করার সংস্কৃতি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য অশনিসংকেত।
এবি পার্টির নেতৃদ্বয় অবিলম্বে এ ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনাকারী, উসকানিদাতা এবং প্রত্যক্ষ হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
একই সঙ্গে তারা আহত সাংবাদিক ও নেতাকর্মীদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে সকল রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বিবৃতির শেষে নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে সকল নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক সহনশীলতা, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিশ্চয়তাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।




