sliderস্থানিয়

কটিয়াদীতে মিড ডে মিলে শিক্ষার্থীদের পচাঁ ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার সরবরাহ

রতন ঘোষ, কটিয়াদী প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সরবরাহ করা মিড ডে মিলের বনরুটি জাতীয় খাবার, পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থায় শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার একদিন আগেই রুটিতে কালো আস্তরণ ও দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এ ব্যাপারে যথেষ্ট ক্ষোভ দেখা দেয়। অভিযোগের পর রুটি গুলি শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ফেরত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু খাবারের মান ও সরবরাহ ব্যবস্থায় তদারকি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের ৫২ নং চরআলগী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে মিড ডে মিলের খাবার হিসাবে বন রুটি জাতীয় খাবার সরবরাহ করা হয়। খাবার হাতে পাওয়ার পরপরই অনেক শিক্ষার্থী, রুটিতে কালো আস্তরন ও রুটি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার অভিযোগ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে নষ্ট রুটি গুলো সাথে সাথেই ফেরত না হয়।

এ ব্যাপারে অভিভাবক শাহপরান মোঃ ইমরান ও আব্দুল্লাহিল ওয়ানি অভিযোগ করে বলেন সরকারি উদ্যোগে শিশুদের জন্য খাবার সরবরাহ করা হলেও এর মান এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার কোনরূপ তদারকি হচ্ছে বলে মনে হয় না। কারণ রুটির প্যাকেটে মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে একদিন পূর্বেই বিতরণের সময় রুটির মধ্যে কালো আস্তরন ও দুর্গন্ধ পাওয়া গেছে।

দুইজন শিক্ষার্থীর মা মোছা: স্বপ্না আক্তার অভিযোগ করে বলেন, প্রায়ই বিদ্যালয়ে শিশুদের কাঁচা কলা, দুর্গন্ধযুক্ত রুটি, কম সিদ্ধ ও নষ্ট ডিম দেওয়া হয়। বিষয়গুলি শিক্ষকদের জানানো হলেও এ বিষয়ে কোন কার্যকর ব্যবস্থা তারা নেননি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, রবিবার খাবার দেওয়ার সময় তিনি বিদ্যালয়ের কাজে উপজেলা সদরে ছিলেন, পরে বিদ্যালয়ে এসে দপ্তরীর নিকট থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণের পর কিছু রুটি দুর্গন্ধযুক্ত দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলি শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ফেরত নেওয়া হয়। এবং সেগুলি সরবরাহকারীকে ফেরত দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান শিক্ষার্থীদের নষ্টরুটি দেওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন ত্রুটিগুলি ফেরত দেয়া হয়েছে এবং খাবার সরবরাহকারীদের নিকট এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলীজ বলেন, বিষয়টি তিনি ইতিমধ্যেই জেনেছেন । শিক্ষার্থীদের খাবার নিয়ে কোন ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে,দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button