নেভাদায় ঝুলে থাকবে ভাগ্য?

এ পর্যন্ত মিশিগানে বাইডেন পেয়েছেন ২৫ লাখ ১৮ হাজার ৯২৩ ভোট। অপরদিকে ট্রাম্প পেয়েছেন ২৫ লাখ ৮৪৩ ভোট। শতকরা হিসেবে বর্তমানে জো বাইডেনের ভোট রয়েছে ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ। অপরদিকে ট্রাম্প পেয়েছেন ৪৯ শতাংশ।
অঙ্গরাজ্যটিতে মোট ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে ১৬টি। এখনো চার শতাংশ ভোট গণনা বাকি। ইতিমধ্যেই বাইডেন ট্রাম্পের চেয়ে ৩২,৩৭৩ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ পেনসিলভেনিয়া রাজ্যে ট্রাম্প এগিয়ে আছেন পাঁচ লাখ ২২ হাজারেরও বেশি ভোটে। সেখানে ৩৬ শতাংশ ভোট গণনা বাকি থাকলেও ধরে নেয়া যাক ট্রাম্পই জিতবেন। পেনসিলভেনিয়ায় ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে ২০টি। এর বাইরে আলস্কা, নর্থ ক্যারোলিনা ও জর্জিয়া জিতে নিলে ট্রাম্পের পক্ষে থাকবে ২৬৭ ইলেকটোরাল ভোট। বর্তমানে তিনি পেয়েছেন ২১৩।
আর জো বাইডেন এখন পর্যন্ত পেয়েছেন ২৩৮ ইলেকটোরাল ভোট। মিশিগান ও উইসকনসিনে তিনি বিজয় নিশ্চিত করতে পারলে তার ইলেকটোরাল ভোট হবে ২৬৪। আর যদি তিনি নেভাদাও জিতে নেন তাহলে প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে তার কোনো আর বাধা থাকবে না।
আর বাইডেন নেভাদায় হারলে এবং ট্রাম্প এ রাজ্যসহ পেনসিলভেনিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা ও জর্জিয়ায় জিতলে তার ইলেকটোরাল ভোট হবে ২৭৩। নেভাদায় ইলেকটোরাল ভোট ৬টি।
এ হিসাবে নেভাদাতেই হয়ত ভাগ্য ঝুলে থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের। ইতিমধ্যে ট্রাম্প নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনেছেন। ডেমোক্র্যাটদের তিনি ভোট চুরির অপবাদ দিয়েছেন। এসবের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।
তবে ফলাফল ঘোষণায় যথেষ্ট সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সময়ের ভিন্নতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ অঙ্গরাজ্যের একেক এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে একেক সময়ে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ইন্ডিয়ানা (১১ ইলেকটোরাল ভোট) ও কেন্টাকি (৮) অঙ্গরাজ্যের অনেক কেন্দ্রে ভোট শেষ হয়। এরপর জর্জিয়া (১৬), সাউথ ক্যারোলাইনা (৯), ভারমন্ট (৩) ও ভার্জিনিয়ায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল সাধারণত ভোটের রাতেই হয়ে থাকে। ২০১৬ সালে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে বিজয় মঞ্চে এসে উল্লসিত সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে এবারের নির্বাচন পরিস্থিতি অন্যান্যবারের চেয়ে ভিন্ন। কর্মকর্তারা এরইমধ্যে শঙ্কা জানিয়ে বলেছেন, ভোটের ফল পেতে কয়েক দিন এমনকি কয়েক সপ্তাহ দেরি হতে পারে। এর কারণ হিসেবে পোস্টার ব্যালট অনেক বেশি হওয়ার কথা বলেছেন তারা।
এ বছর দশ কোটির বেশি আমেরিকান ভোটার ডাকযোগে আগাম ভোট দিয়েছেন, যা দেশটির ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ভিড় এড়াতেই মূলত ডাকযোগে ভোটের সংখ্যা বেড়েছে।
ভোটারের স্বাক্ষর ও ঠিকানার মতো বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখার মতো যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হওয়ায় পোস্টাল ভোট গণনায় সময় বেশি লাগে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান / ফক্স নিউজ/দেশ রূপান্তর।




