বৈরি আবহাওয়া ও ডুবোচরের কারণে দুইদিন পর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে শনিবার বিকেল ৪টায় বসলো পদ্মা সেতুর ১৪তম স্প্যান। সেতুর ১৫ ও ১৬ নম্বর পিলারে স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ২১শ’ মিটার।
১৪তম স্প্যানটি বৃহস্পতিবার বসানোর কথা ছিলো। এর আগে গত ২৫ মে ১৪ ও ১৫ নম্বর পিলারের উপর বসানো হয় ১৩তম স্প্যানটি। এই নিয়ে এ পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে স্থায়ী ১২টি স্প্যান ও দুইটি অস্থায়ী স্প্যান মিলে মোট ১৪টি স্প্যান বসানো হলো।
এরমধ্যে জাজিরাপ্রান্তে ৯টি স্থায়ী স্প্যান বসানোর মাধ্যমে সেতুর ১৩৫০ মিটার ও মাওয়া প্রান্তে তিনটি স্থায়ী এবং একটি অস্থায়ী স্প্যান মিলে মোট ৬০০ মিটার এবং সেতুর মাঝ বরাবর একটি স্প্যান (১৫০ মিটার) অস্থায়ীভাবে বসানোয় সেতুর মোট ২১শ’ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। তবে স্প্যানগুলো ভিন্ন ভিন্ন মডেলে বসানোর কারণে দৃশ্যমান অংশগুলো এক সারিতে নয় বরং বিচ্ছিন্নভাবে থাকবে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় বৃহস্পতিবার ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ নামের ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজটি কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যানটি ১৫ এবং ১৬ নং খুঁটির দিকে বিলম্বে রওনা দেয়া হয়। এরই মধ্যে ১৩নং খুঁটি বা পিলারের সামনে গেলে ১৫ এবং ১৬নং খুঁটির মাঝপদ্মার মাঝামাঝিতে স্থানে পলি জমে উচু হয়ে থাকে। এরপর ড্রেজিং করে সেই পলি অপসারনের পর শনিবার দুপুর ১২টার দিকে স্প্যান বহনকারী ক্রেনবাহী জাহাজটি ১৫ ও ১৬ নং খুঁটির কাছে নেয়া হয়। এরপর বিকেল ৪টায় স্প্যানটি পিলারের উপর বসানো হয়। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২টি পিলারের উপর বসবে ৪১টি স্প্যান।
বহুমুখী পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে সবমিলিয়ে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল সেতু নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে সে দেশেরই আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দুই স্তর বিশিষ্ট। স্টিল ও কংক্রিট দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। সেতুর উপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়কপথ এবং নিচের স্তরটিতে থাকবে একটি একক রেলপথ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় হ্যামার দিয়ে কাজ চলছে পদ্মা সেতুর। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এ সেতু নির্মাণে প্রতিদিন দেশি-বিদেশী ৩-৪ হাজার শ্রমিক কাজ করছে।
নয়া দিগন্ত




