ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু ইউনিট চালু

মোঃ শাহাদাত হোসেন মনু, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ইউনিট চালু করেছে ঝালকাঠি সদর
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দিন দিন ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ায় সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পশ্চিম দিকে ১০টি বেডে নিয়ে ডেঙ্গু ইউনিট চালু করা হয়েছে। প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে এ হাসপাতালে। দিন যত বাড়ছে রোগীদের চাপও তত বাড়ছে।
ঝালকাঠি পৌর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈকত হোসেন ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে বাসায় ফিরেন। জ্বরের প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ সেবনে সুস্থ না হওয়ায় চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হন। এরপর তিনি কয়েকটি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেন। রিপোর্টে তিনি ডেঙ্গু জ্বর আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধরা পড়ে। এরপরই তিনি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিটে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন সৈকত। শুধু সৈকতই না, এভাবে আরো রোগী জেলার বাহির থেকে আক্রান্ত হয়ে এসে এখানে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মেহেদী হাসান সানি বলেন, সৈকতের অবস্থা ছিল প্রাথমিক ধাপে (এ স্টেজে)। তাই তিনি দ্রæত সেরে উঠেছেন। এখন কারও জ্বরের সঙ্গে শরীরের জয়েন্টে ব্যথা কিংবা র্যাশ দেখা দিলে তাঁকে দ্রæত ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। প্রাথমিক ধাপে থাকা অবস্থায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে রোগী দ্রæত সেরে ওঠে। কিন্তু রোগী যদি বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়ে রোগের দ্বিতীয় ধাপে চলে যায়, তাহলে রোগী সেরে উঠতে সময় নেয়।
তিনি আরও বলেন, অনেকে জ্বর হলে এখন করোনা মনে করে। দুই রোগের জ্বরেও পার্থক্য রয়েছে। ডেঙ্গুর জ্বর করোনার তুলনায় উচ্চ মাত্রায় থাকে। সন্দেহ হলে দুটি পরীক্ষাই করাতে হবে। এ বছর দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর প্রকোপ বেশি। পৌর এলাকার ড্রেনে কর্তৃপক্ষ ক্রাশ প্রোগ্রাম করার পরও মশা নিধন করা সম্ভব হয়নি। শুধু ড্রেনেই না, বড় বড় গাছের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠে জমে থাকা পানিতে মশা সৃষ্টি হয়। এছাড়াও ময়লা আবর্জনার মধ্যে যদি একটু পানি জমে থাকে সেখানেও মশা প্রজনন করে। জনসাধারনের প্রতি সেদিকে খেয়াল রাখার অনুরোধ করেন তিনি।
হাসপাতালটির তত্ত¡াবধায়ক ডা. এইচএম জহিরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ইউনিট চালু করা হয়েছে। সেখানে সবধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে। রোগীর চাপের উপর নির্ভর করে প্রয়োজনে এই ইউনিটে শয্যা বাড়ানো হবে।




