sliderরাজনীতিশিরোনাম

জয়বাংলা থেকে জাতীয়তাবাদ:স্লোগান বদলেছে সংস্কৃতির বদল হয়নি-মঞ্জু

পতাকা ডেস্ক: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, জয়বাংলা থেকে জাতীয়তাবাদ,শুধু স্লোগান বদলেছে, সংস্কৃতির বদল হয়নি। তিনি আজ দেশব্যাপী অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও জননিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবি পার্টি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে বিজয়-৭১ চত্বরে আয়োজিত এ সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।
আরোও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুব পার্টির আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আগে প্রশাসন ছিল আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে, এখন তা বিএনপির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। আগে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে হামলা করা হতো, এখন জাতীয়তাবাদী স্লোগান তুলে হামলা করা হচ্ছে। জয়বাংলা থেকে জাতীয়তাবাদ,শুধু স্লোগান বদলেছে, সংস্কৃতির বদল হয়নি।
তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক অবস্থা নিয়ে জনগণের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। “কথা ছিল নির্বাচন হলে দেশের পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে।
মঞ্জু বলেন, ৫ আগস্টের পর সরকার কার্যত অনুপস্থিত থাকলেও বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি হয়নি; বরং শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছিলেন। আমরা নির্বাচন চেয়েছিলাম, তবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীল পরিবেশে পৌঁছানোর পর নির্বাচন হোক,এটাই ছিল আমাদের প্রত্যাশা,যোগ করেন তিনি।

বিএনপির সমালোচনা করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ৩১ দফার কথা বলে বিএনপি আবার পুরনো বন্দোবস্তেই ফিরে গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে শুধু বিএনপিরই প্রায় ৬ হাজার নেতাকে বহিষ্কার করতে হয়েছে। এরপরও চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ হয়নি; বরং আরও বেড়েছে। তিন মাসের সরকার ঋণ করেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা, হামে ইতিমধ্যেই ৪০০ এর উপরে বাচ্চাদের হারিয়েছি।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রত্যেক জায়গায় নীরবে চাঁদাবাজি চলছে। এখন আর বহিষ্কারও হয় না, গ্রেফতারও হয় না।
বাজার, থানা ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি এবং প্রভাবশালী মহলের অপতৎপরতার অভিযোগ তুলে মঞ্জু বলেন, কারা পুলিশে দুর্নীতি করছে, কারা সচিবালয়ে পোস্টিং বাণিজ্য করেছে,সব তথ্য আমরা জনগণের সামনে প্রকাশ করবো এবং দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করবো।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাজারসহ বিভিন্ন খাতে যারা চাঁদাবাজি করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং থানার ভেতরে সংঘটিত হামলার ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শাহাদাতুল্লাহ টুটুল বলেন, কুরবানির ঈদের বাজারকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, হয়রানি ও নৈরাজ্য সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে বিএনপি সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ দেখতে চায় দেশবাসী। তিনি ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

এসময় এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান,এবি শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ক শেখ জামাল হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা) শাজাহান ব্যাপারী,এবি যুব পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব কৌশিক আহমেদ এবং যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button