
রতন ঘোষ, কটিয়াদী প্রতিনিধি :কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা সদরের দক্ষিণ পাটমহলে পাট বোঝাই গাড়িতে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে, তবে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা এবং স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের আগমনের কারণে অল্পতেই রক্ষা পেল কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
১ আগস্ট শনিবার বেলা আনুমানিক তিন ঘটিকার দিকে কটিয়াদী সদর দক্ষিণ পাটমহলে পাট ব্যবসায়ী কমল সাহার গোদামে আনা একটি বড় টমটমে থাকা প্রায় ১২০ মন পাটে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। দ্রুততার সাথে আগুন ছড়িয়ে পড়লে পাটমহলে এক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
প্রথমে স্থানীয় দোকান ব্যবসায়ী মালিকগণ এবংস্থানীয় লোকজন নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে উদ্যোগ নিয়ে আগুন নিভানোর চেষ্টা করতে থাকেন।কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেড়ে গেলে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করলে, আসতে দেরী হওয়ায় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন করা হলে পরপরই কটিয়াদী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। কিন্তু পানির পর্যাপ্ত উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস উক্ত পাটমহলের দক্ষিণ দিকে সরকারি খালে পাইপ লাগিয়ে পানির ব্যবস্থা করে। প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
উল্লেখযোগ্য যে উক্ত পাটমহলে পানির উৎস হিসেবে কয়েকটি টিউবওয়েল থাকলেও কয়েকদিন পর পর কয়েকবার উক্ত দক্ষিণ পাটমহলে,, চোরেরা চুরি করে, টিউবলের মাথা সহ দোকান মালিকদের দোকানের পাট মাপার পাথর সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যায়। বর্তমানে পাট মহলের শত শত ব্যবসায়ীর সুপেয় পানির কোন ব্যবস্থা নেই।
পাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ আঙ্গুর মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক সুবীর সাহাকে জিজ্ঞাসা করা হলে, তারা বলেন, কটিয়াদীতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকাতে, আমাদের বিরাট উপকার হয়েছে। কিছুটা দেরি হলেও দ্রুতই তারা চলে আশায় ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকেরক্ষা পেল আমাদের পাটমহলের ব্যবসায়ী বৃন্দ।
পাট মৌসুম মাত্র শুরু হওয়ায়, এখনো সমস্ত ঘরে পাট কেনাবেচা পূর্ণভাবে শুরু হয়নি। বর্তমান আগুনের ক্ষতির পরিমাণ জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলেন সম্ভবত ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তারা বর্তমান সরকারের নিকট দাবী করেন যে, পাট মহলে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করতে হবে এবং পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ দিকে সরকারি খালটি সাধারণভাবে খনন করে পর্যাপ্ত পানি সঞ্চয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এমনিতেই অনেক স্বার্থান্বেষী মহল উক্ত সরকারি খালের জায়গা দখল করে, ঘর দরজা নির্মাণ, এমনকি বিল্ডিং পর্যন্ত করে ফেলেছে যা দ্রুততার সাথে সরকারের হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন । নতুবা সরকার কোটি কোটি টাকার সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে।




