আইন আদালতশিরোনাম

পাপিয়ার হুঙ্কারই সত্য হলো

শুল্ক ফাঁকির অভিযোগের দুদকের করা মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ।
সে মামলায় গত ২১ অক্টোবর এমপি হারুনকে পাঁচ বছরের দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান আদালত। এরপর সেদিনই এমপি হারুনের স্ত্রী ও বিএনপির সাবেক এমপি আসিফা আশরাফি পাপিয়া হুঙ্কার দেন, ১০ দিনের মধ্যে দুর্নীতির মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তার স্বামী এমপি হারুনের জামিন হয়ে যাবে। অতঃপর পাপিয়ার সেই হুঙ্কারই সত্য হলো। ১০দিনের আগেই জামিন পেয়েছেন এমপি হারুন।
দূর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপির নেতা হারুণ অর রশীদকে আদালত ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন। জামিন দেয়ার পাশাপাশি তার জরিমানাও স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের বেঞ্চ এই রায় দেন।
এর আগে সোমবার সকালে এমপি হারুন তার দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন ও জামিন চান।
গত ২১ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এমপি হারুনকে ৫ বছরের দণ্ড দেন। পাশাপাশি তাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ওইদিনই তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
এই মামলায় পলাতক আসামি চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এনায়েতুর রহমান বাপ্পিকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
এ ছাড়া অপর পলাতক আসামি গাড়ি ব্যবসায়ী স্কাই অটোসের মালিক ইশতিয়াক সাদেককে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
আদালত সূত্র জানায়, সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় (এমপি কোটায়) ২০০৫ সালের ১৯ এপ্রিল শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করেন হারুন অর রশীদ। এর এক সপ্তাহ পরেই গাড়িটি তিনি স্কাই অটোসের মালিক ইশতিয়াক সাদেকের মাধ্যমে ক্রেতা মো. এনায়েতুর রহমানের কাছে বিক্রি করেন। গাড়িটির ইনভয়েস মূল্য ১১ লাখ ৬৪ হাজার ১১০ টাকা।
এ ঘটনায় হারুন অর রশীদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা হয় ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ। মামলার বাদী হলেন পুলিশের উপপরিদর্শক ইউনুস আলী। মামলাটি তদন্ত করে হারুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১৮ জুলাই আদালতে চার্জশিট দেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোনায়েম হোসেন। আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে হারুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট বিচার শুরু করেন আদালত।
হারুন অর রশীদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব। একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।
এদিকে, শুল্ক ফাঁকির অভিযোগের মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য (এমপি) হারুন অর রশীদকে হাইকোর্টের দেওয়া ছয় মাসের জামিনের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।সোমবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
তিনি জানান, মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে সিএমপি অথবা লিভ টু আপিল দায়ের করবো।
পূর্বপশ্চিম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button