sliderস্থানিয়

কাজিপুরে ডিমের দাম দেড়গুণ

মোঃ আব্দুর রব মনসুর,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: কাজিপুর উপজেলায় মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম প্রায় দেড়গুণ বেড়েছে। বিভিন্ন বাজারে কোথাও কোথাও ফার্মের মুরগির ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। অথচ দুই সপ্তাহ আগেও হালিপ্রতি দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে।

ডিমের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। সাশ্রয়ী আমিষের উৎস হিসেবে নিয়মিত খাবারের তালিকায় থাকা ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন প্রয়োজনের তুলনায় কম ডিম কিনছেন। কেউ কেউ খাবারের তালিকায় নিয়মিত ডিম রাখলেও এখন সেটি বাদ দিতে হচ্ছে।

কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে এক হালি ডিম সর্বনিম্ন ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই হিসেবে এক খাচ্ছি ডিমের দাম ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ভোক্তাকে। দুই সপ্তাহ আগেও যা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনতে পাওয়া গেছে। বর্তমানে একটি ডিম কিনতে ১০ থেকে ১২ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাকে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যস্বত্বভোগীর সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে সময়ে সময়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। তাদের দাবি, খামারিরা যেমন ন্যায্যমূল্য পায় না, তেমনি খুচরা বিক্রেতারাও বেশি লাভ করতে পারেন না। যখনই কোনো পণ্যের দাম অস্বাভাকিভাবে বৃদ্ধি পায়, তাতে মধ্যস্বত্বভোগীরাই বেশি লাভবান হয়।

কাজিপুর পৌর বাজারে মুদি দোকানের বিক্রেতা আব্দুর রহমান জানান, পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন বন্যার কারণে ডিমের এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে, তার ধারণা কয়েকদিনে দাম এতটা বাড়ার পেছনে কেবল বন্যা দায়ী নয়। এখানে মধ্যস্বত্বভোগীর সিন্ডিকেট যুক্ত হয়েছে।

পোলট্রি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেলে দ্রুত ডিমের দাম বেড়ে যায়। দেশে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার কোটি ডিমের চাহিদা রয়েছে। ফলে উৎপাদন বা সরবরাহে সামান্য ঘাটতি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। অবশ্য দাম বাড়ার অন্যতম আরেকটি কারণ হলো কারসাজি। খামারিরা ন্যায্যমূল্য না পেলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা কখনোই কম লাভে ডিম বিক্রি করেন না। বরং সংকটকালীন সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন তারা।

সাম্প্রতিক পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভয়াবহ বন্যার কারণে দেশের অসংখ্য লেয়ার খামারি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যায় অনেক খামারির ডিম নষ্ট হয়েছে এবং মুরগি ও ডিম ভেসে গেছে। যার ফলে বাজারে হঠাৎ করে জোগানের বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং দাম বেড়েছে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খামারিরা কখনোই ভোক্তাদের দেওয়া চড়া দামের সুফল পান না। খামারিরা যে দামে বিক্রি করেন এবং ভোক্তারা যে দামে কেনেন- তার মধ্যে এক বিরাট পার্থক্য থাকে। কারণ খামারিরা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারেন না। মধ্যস্বত্বভোগীরা এই সুযোগটি ব্যবহার করে অধিক লাভবান হন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button