
রাজধানীতে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিআইপি), এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য পৃথক লেন করার প্রস্তাব অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি। মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের এ প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য বলেও দাবি করেছে দীর্ঘদিন ধরে সারা দেশে একটি নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার আন্দোলন চালিয়ে আসা বেসরকারি সংগঠনটি।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় কমিটির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে বিশেষ শ্রেণির মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে এ ধরনের লেন তৈরি হলে সমাজ ও রাষ্ট্রে শ্রেণিবৈষম্য ও নগরবাসীর ভোগান্তি বহুগুণ বেড়ে যাবে; যা রাষ্ট্রের কাছে কোনো অবস্থাতেই সাধারণ জনগণের কাম্য নয়। ভিআইপিসহ সব ধরনের মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেয়া হয় বিবৃতিতে।
জাতীয় কমিটি মনে করে, যানজটসহ রাজধানীর ভয়াবহ বায়ুদূষণ রোধে সড়কের ওপর নির্ভরতা কমাতে ঢাকার চারদিকের বৃত্তাকার নৌপথ পুরোপুরি সচল ও জনবান্ধব করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িসহ ক্ষুদ্র যানবাহনের সংখ্যা হ্রাস, সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার্থে বিআরটিসির বাস ও সেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং বেসরকারি পর্যায়ে বড় বাস আমদানি উৎসাহীত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়া দুই সিটি করপোরেশনের আয়তন ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সড়কের আয়তন বাড়ানোর অপরিহার্যতাও দেখা দিয়েছে। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি দীর্ঘদিন সেই দাবি-ই জানিয়ে আসছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরাসহ বিভিন্ন মহল যখন এসব দাবির সমর্থনে সোচ্চার, তখনই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পৃথক লেন করার অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য প্রস্তাব এলো।
যানজটের কবল থেকে রেহাই পেতে ভিআইপি, এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি চলাচলের জন্য রাজধানীতে পৃথক লেন করার প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। গত ৫ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।



