আন্তর্জাতিক সংবাদ

সশস্ত্র ড্রোন দেবে যুক্তরাষ্ট্র!

আধুনিকীকরণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে আমেরিকার কাছে সশস্ত্র ড্রোন কেনার যে আবেদন জানিয়েছিল ভারতীয় বিমানবাহিনী, তাতে সবুজ সংকেত দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতেই তিনি ভারতের হাতে তুলে দিতে চান অত্যাধুনিক সশস্ত্র ড্রোন। আর তাতে স্বাভাবিকভাবেই আরো চাপে ইসলামাবাদ। কারণ, সশস্ত্র ড্রোন প্রতিরোধ শক্তি আরো জোরদার করবে বলে দাবি ভারতীয় বিমানবাহিনীর।
গত ২৬ জুন হোয়াইট হাউজে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে আমেরিকার পক্ষ থেকে ভারতকে ২২টি অস্ত্রহীন গার্ডিয়ান ড্রোন বিক্রির সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভারত মহাসাগর এলাকায় ভারতীয় নৌবাহিনীর নজরদারি ক্ষমতা বাড়াবে। আর এ বছরের গোড়ায় ভারতীয় বিমানবাহিনী মার্কিন সরকারের কাছে জেনারেল অ্যাটোমিকস প্রিডেটর সি অ্যাভেঞ্জার এয়ারক্র্যাফট চায়।
জানানো হয়, বাহিনীর শক্তি আধুনিকীকরণের জন্যই তাদের মোটামুটি ৮০ থেকে ১০০টি ইউনিট প্রয়োজন। যার অর্থমূল্য প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। এবার সেই আবেদনেই সাড়া দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অফিসারটি বলেন, ভারতীয় বিমানবাহিনীর আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদেশি রাষ্ট্রকে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির বিষয় সবসময় বিবেচনা করা হয়, তবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ব্যাপারেও ভেবে দেখা হয়, কী করে আমাদের সহযোগিতা, সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হতে পারে।
চলতি মাসেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস ইসলামাবাদকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তান যদি এখনো নিজেদের অবস্থান না বদলায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
একইসঙ্গে ইসলামাবাদকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাদের কূটনৈতিকভাবে একঘরে করে দেয়া হবে। খোয়াতে পারে নন-ন্যাটো শরিকের তকমাও। মার্কিন কংগ্রেসকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা সন্ত্রাসবাদ দমনে ইসলামাবাদকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলব, কিন্তু তারা কথা না শুনলে ট্রাম্প যা ব্যবস্থা নেয়ার নেবে।
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর কয়েক শ’ কোটি ডলার অর্থমূল্যের আধুনিকীকরণ বহুদিন ধরে বকেয়া রয়েছে। তারই অঙ্গ হিসাবে আগামী দশকে আমেরিকা থেকে হাই-টেক প্রতিরক্ষা সাজ-সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি কিনতে চাইছে ভারত। এবার সেই দরজা খুলে দিতে চলেছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনও ভারতের যাবতীয় আবেদন, প্রত্যাশাগুলি দ্রুততার সঙ্গে বিবেচনা করে দেখছে।
রোববার মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সমুদ্রে জলদস্যু বাহিনীর মোকাবিলায়, ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর এলাকায় অবাধ যাতায়াত সুনিশ্চিত করতে মার্কিন ও ভারতীয় নৌবাহিনীর অনেক বছর ধরেই পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। আমার মনে হয়, চাহিদার ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বেড়েই চলবে। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন জানান, বড় প্রতিরক্ষা শরিকের মর্যাদা ও নৌবাহিনী সংক্রান্ত সহযোগিতা বৃদ্ধির পারস্পরিক স্বার্থ মাথায় রেখে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে বিবেচনা করে দেখার জন্য গার্ডিয়ান ইউএভি সহ একগুচ্ছ প্রতিরক্ষা সামগ্রী সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি সশস্ত্র ড্রোনের উল্লেখ করেননি বটে, তবে বলেন, বিশ্বশান্তি ও সুরক্ষায় ভারত যে ভূমিকা পালন করতে পারে, তাকে আমরা গুরুত্ব দিই, ভারত আরো বেশি শক্তিশালী হবে, তা সুনিশ্চিত করতেও তৈরি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button