sliderজাতীয়শিরোনাম

মানুষের উন্নতি মানেই দেশের উন্নতি–প্রধানমন্ত্রী

স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোর: খাল খনন, ৫০০ শয্যা মেডিকেল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরী পরিদর্শন ও ঈদগাহ ময়দানের জনসভায় ভাষন দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি এই দেশের মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে। বিএনপি বিশ্বাস করে এই দেশের মানুষের উন্নতি মানেই দেশের উন্নতি। দেশের ২০ কোটি মানুষের কল্যাণে বিএনপির সরকার কাজ করছে।বিএনপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ শুরু করেছে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত জনগণের সরকার। আমরা সেই কাজগুলো করবো যে কাজ গুলোর মাধ্যমে জনগণের উন্নয়ন হবে।

আমরা নির্বাচনের আগে যশোরের জনসবায় বলেছিলাম, ইনশাআল্লাহ জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে আমরা ফ্যামিলী কার্ড, কৃষক কার্ড,১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মৌকুফ করব। সরকার পরিচালনার সুযোগ পেয়ে বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরনে কাজ শুরু করেছে। বিএনপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার দল। আমরা যা বলি তাই করি। আমরা কথা মালার রাজনীতি করি না। বেগম খালেদা জিয়া তাঁর শাষনামলে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত ও পরবর্তীতে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। আমরা বর্তমানে সরকার পরিচালনার সুযোগ পেয়ে উচ্চ শিক্ষা পর্যায়েও মেয়েদের জন্য বিনামুল্যে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলনের লক্ষ্যে কাজ করছি। আমরা দেশের বেকার সমস্যার সমাধানে কাজ করছি। মেধাবীদের বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি উলাসী খাল জিয়া খান পুনঃখননের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, এই খাল খননের মাধ্যমে দেশের কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব শুরু হবে।কৃষকদের কথা ভেবে এবং দেশের জলাবদ্ধতা দূর করতে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। বিএনপি যখন তার ন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছি,তখনই এক শ্রেণীর মানুষ ভিন্ন ধরনের রাজনীতি নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি জনগণের প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করছে। এই চক্রটি বলছে বিএনপি ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে গেছে। কিন্তু কারা ফ্যাসিবাদের দোসর তা দেশের মানুষ জানে। ৫ আগষ্টের পর তারা বলেছিল, আমরা সবাইকে মাফ করে দিলাম। এখন তারাই ফ্যাসিবাদীদের সাথে আঁতাত করে নতুন করে ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করছে।

আমাদের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের মানুষের স্বার্থ ও উন্নয়ন। আমাদের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষন করা।

আমাদের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এই যশোরের ৪৮ জনসহ হাজার হাজার মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। আমাদের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, লাইন ও শব্দ সংসদে বিল আকারে পাস করে তা বাস্তবায়ন করা।
আজ যারা জুলাই সনদ নিয়ে মায়া কাঁন্না করছেন তারা ফ্যাসিষ্ট সরকারের প্রধানসহ তার দোসররা পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে মাফ করে দিয়েছিল, তাদের মুখে ফ্যাসিবাদ বিরোধী কথা মানায় না।

শহীদ জিয়া যেমন বলেছিলেন ৯ কোটি মানুষের ১৮ কোটি হাত, আজ বলবো ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত। এই ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে পরিনত করতে হবে। আজ আমরা যেমন শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার কাজ শুরু করেছি। আমাদের মুল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের জনগন। তাইতো আমরা বলি প্রথম বাংলা আমার শেষ বাংলাদেশ। আমরা সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন সেই জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করা হবে। ২৮ মিনিটের টানা বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের ও দেশের কল্যানে তার সরকারের গৃহিত কর্মসূচী তুলে ধরে তা পর্যায়ক্রমে পূরণের কথা পুনঃব্যক্ত করেন।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম,
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল,পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত,এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম চৌধৃরী,পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, অমলেন্দু দাস অপু, সাবিরা সুলতানা মুন্নি, মিজানুর রহমান খানসহ জেলা বিএনপি,যুবদল,স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন।

বক্তারা বলেন,এই যশোরে নতুন রাজনীতি, নতুন ধরনের সংস্কৃতি চালুর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশকে নতুন রাষ্ট্রে পরিণত করবেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী যদুনাথপুর জিয়া খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করেন। তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়ি বোঝাই করেন এবং তিনি ও অমিত সেই ঝৃড়ি বোঝাই মাটি শ্রমিকের মাথায় তুলে দেন। এখানে এক সংক্ষিপ্ত সুধী সমাবেশে বকৃতা করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ বেডের হাসপাতালের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এবং সুধী সমাবেশে বক্তৃতা করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button