Uncategorized

পাহাড় ধসের এক মাস পর রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি উন্মুক্ত

পাহাড় ধসের এক মাস তিন দিন পর রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়ক হালকা যানবাহনের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। রবিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার গাড়ী নিয়ে পার হওয়ার পর পরই যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
একটানা তিন দিনের ভারী বর্ষার কারণে ১৩ জুন সকালে রাঙ্গামাটি শহরে ঘটে যায় স্মরণ কালের ভয়াবহ পাহাড় ধস। পাহাড় ধসের ফলে রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কের ৬ কিলোমিটার এবং ৮ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তার দুটি অংশে বিশাল এলাকা ধসে যায়। এছাড়া দীর্ঘ ৭০ কিলোমিটার ওই সড়কের অস্তিত্বও হারিয়ে যায়। দীর্ঘ ১৫ দিনেরও বেশি রাস্তার মাটি পরিষ্কার করে রাস্তার ভাঙন অংশে সংস্কার কাজ শুরু করে রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
দীর্ঘদিন পর এই রাস্তার সংযোগ করায় এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। রাস্তা বন্ধ থাকায় রাঙ্গামাটির সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় খাগড়াছড়ি, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি, লংগদু ও কুতুকছড়ি এলাকাবাসীরা। রবিবার এই রাস্তার হালকা যানবাহনের জন্য খুলে দেয়া মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আছে।
রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ এমদাদ হোসেন জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ দীর্ঘ ১ মাসেরও বেশী সময় ধরে এই সড়কটি চালু করার জন্য কাজ করছে। পাহাড় ধসের পর কয়েকদিন বৃষ্টিপাত নাহলেও পরবর্তীতে টনা কয়েকদিন বৃষ্টির ফলে এই সড়কে কাজ করার কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে। তিনি বলেন বৃষ্টি না হলে আরো আগেই এই সড়কটি হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হতো। তিনি বলেন, এই সড়কটি আজ সকলেই খুলে দেয়ার কথা ছিলো কিন্তু রবিবার বিকেলে বজ্রপাত ও ভারি বর্ষায় ভরাটকৃত অংশে আরো বেশি কিছু অংশের মাটি ধসে যাওয়ায় আজ একটু দেরী হয়েছে।
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দিয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, রাঙ্গামাটিতে স্মরণ কালের সর্বশ্রেষ্ঠ পাহাড় ধস হয়েছে। এই ধসের কারণে রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়ক সহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটের প্রায় ১৪১ টি পয়েন্টে রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, এতো বড় বিপর্যয়ের আড়াই দিনের মাথায় আমরা বিদ্যুৎ পেয়েছি। রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়কের বিশাল অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় পরও সেনাবাহিনী ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের অক্লান্ত পরিশ্রমে ৮ দিনের মাথায় রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়ক হালকা যানবাহনের জন্য খুলে দেয়া হয়। বাকী ছিলো আমাদের রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক এই সড়কটিও দুটি অংশের রাস্তা সহ ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সহ মৌসুমি পণ্য পরিবহন বন্ধ ছিলো। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আজ এই রাস্তাটি খুলে দেয়া হচ্ছে।
সুত্র: ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button