
মোঃ ইসলাম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: বিএনপির মহাসচিব ও সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে কে বিএনপির প্রার্থী হবেন—এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি কথিত জনমত জরিপও করা হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. শামারুহ মির্জা (সামা) এবং তাঁর ছোট ভাই, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিনের নাম আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে কে ভবিষ্যতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
তবে এসব আলোচনা এখনই প্রার্থিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন। তাঁর ভাষ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসন এখনো শূন্য হয়নি। তাই প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি এখনো সামনে আসার কথা নয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব আলোচনা নিয়ে জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফয়সল আমিন।
তিনি বলেন, “একই পরিবারের দুজনের নাম প্রার্থী হিসেবে আসছে। কিন্তু আমরা কেউই এখনো প্রার্থী নই। প্রার্থিতা নির্বাচনের বিষয়টি এখনো আসেনি। এই আসন এখনো শূন্য হয়নি। এখনো বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি আছেন।”
তিনি আরও বলেন, “দল তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। ২০ আগস্ট নির্বাচন হবে। নির্বাচনের পর তিনি শপথ নেবেন, গেজেট হবে। এরপর সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে। আসনটি শূন্য হওয়ার পরই প্রার্থিতার বিষয়টি সামনে আসবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ও ড. শামারুহ মির্জার নাম আলোচনায় আসার বিষয়ে ফয়সল আমিন বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে শামারুহ (সামা) একজন স্বনামধন্য বিজ্ঞানী। তিনি বিদেশে থাকেন। বাবার নির্বাচনের সময় দেশে এসে মানুষের সঙ্গে মিশেছেন এবং নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এ কারণে মানুষ তাঁকে প্রার্থী হিসেবে চাইতে পারেন।
তিনি বলেন, “আমি সরাসরি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সে হিসেবে মানুষ আমাকেও চাইতে পারে। মানুষের এই চাওয়াটাই মূল বিষয়। তবে বিষয়টিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, আসলে তা সেভাবে নয়। এ নিয়ে আমাদের পরিবারের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি।”
ফয়সল আমিন আরও বলেন, “আমাদের পরিবারের মধ্যে এটা নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। এটা নিয়ে আমরা কেউ বিচলিতও নই। তবে একটা সমস্যা হচ্ছে, সাধারণ ভোটাররা বিব্রত হচ্ছেন। কেন এভাবে আলোচনা বা জনমত জরিপ করা হচ্ছে। এসব গুঞ্জনে কান না দেওয়াই ভালো।”
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কে বিএনপির প্রার্থী হবেন, সেই সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা কিংবা কথিত জনমত জরিপের মাধ্যমে হবে না বলেও মন্তব্য করেন জেলা বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, “তাদের বিভ্রান্ত করে কোনো লাভ নেই। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলের নীতিনির্ধারকরাই সিদ্ধান্ত নেবেন, শূন্য আসনে কে নির্বাচন করবেন। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন যেভাবে কাকে চান, কে আসবেন, জনমত জরিপ—এসব করা ঠিক হচ্ছে না।”
ড. শামারুহ মির্জার বিষয়ে ফয়সল আমিন বলেন, “সামা রাজনীতি করেন না। তিনি একজন প্রবাসী বিজ্ঞানী। তবে প্রয়োজন হলে তিনি অবশ্যই আসবেন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আমার ভাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই বিষয়গুলো নিয়ে এই মুহূর্তে আলোচনা করা মনে হয় ঠিক হবে না।”
তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের দুজনের ছবি ও প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনার বিষয়টি শামারুহ মির্জার সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে।
এদিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন, সে সিদ্ধান্ত দলই নেবে। তবে তাঁর দাবি, ড. শামারুহ মির্জা আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করেন এবং বর্তমানে জেলা বিএনপির কোনো পদে নেই। ফলে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে তাঁর আরও সময় লাগতে পারে।
পয়গাম আলী বলেন, মির্জা ফয়সল আমিন জেলা বিএনপির সভাপতি এবং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ। দল তাঁকে ভালোভাবে চেনে। তাঁর মতে, আসনটি শূন্য হলে শেষ পর্যন্ত ফয়সল আমিনকেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে দলীয় সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কে হচ্ছেন—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান আলোচনা আপাতত গুঞ্জন হিসেবেই থাকছে।



