sliderরাজনীতিশিরোনাম

দলীয়করণ ও শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ফিরিয়ে এনে সরকার জনগণকে দারুণভাবে আশাহত করেছে-এবি পার্টি

পতাকা ডেস্ক: স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেশনগুলোতে দলীয়করণ এবং শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ফিরিয়ে এনে সরকার জনগণকে দারুণভাবে আশাহত করেছে বলে দাবি করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। আজ রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় একথা বলেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক দলের পুরস্কার দেওয়ার জায়গা না। যোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মতোই জনগণের আস্থা হারাবে।
সরকার স্বায়ত্বশাসিত ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ করবেনা, এমন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত বা নির্বাচনে পরাজিত বিএনপি নেতাদের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে। এ ধরনের নিয়োগ সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবের অধীনে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে বলে জানান তিনি।
সভায় দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, সরকারের জ্বালানি ও ওষুধনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন জেলা ও মহানগর কমিটির কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।
মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও বলেন, সরকারকে জনগণের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা এবং দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোকেও জনগণের নিত্যদিনের সংকট ও দাবিগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং তা প্রতিহত করতে শিবিরের পাল্টা তৎপরতা সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে। এটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতৃত্বের উচিত তাদের ছাত্রসংগঠনগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। শিক্ষাঙ্গনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে এর সুযোগ নেবে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তি। আমরা কোনোভাবেই দেশকে আবার অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের পথে দেখতে চাই না।
মঞ্জু বলেন, সরকারের প্রধান দায়িত্ব জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করা। নির্বাচনী ওয়াদা বাস্তবায়নের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে কার্যকর ও কঠোর ভূমিকা নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান।
তিনি আরও বলেন, বিভেদ ও বিদ্বেষ নিয়ে একটি রাষ্ট্র এগিয়ে যেতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।
দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মেজর (অব:) আব্দুল ওহাব মিনার, আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর কাসেম, অ‍্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, ব্যারিস্টার খান আযম, সাধারণ সম্পাদক ব‍্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আনোয়ার সাদাত টুটুল, এবিএম খালিদ হাসান, ব্যারিস্টার নুরুল গাফফার, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, ব্যারিস্টার নাসরীন সুলতানা মিলি, আলতাফ হোসাইন ও শাহাদাতুল্লাহ টুটুল,জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ লোকমান, আব্দুল বাসেত মারজান, অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন ও সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

সভায় সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সাংগঠনিক বিশেষ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে
রংপুর মহানগর ও রংপুর জেলার দলীয় কমিটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
রংপুর মহানগর ও জেলা কমিটি পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওয়াহাব মিনার এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলকে।
সভায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, মাঠপর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করা এবং চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবি পার্টির করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button