
বিধান মন্ডল (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: “অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে” এই প্রতিপাদ্য বিষয় কে সামনে রেখে ফরিদপুরের সালথায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমম্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ১২টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী দবির উদ্দিনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. ইলিয়াছুর রহমান।।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, এভিসিবি- ৩য় পর্যায় প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কার মোছাঃ রুবিনা বেগম।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুন সরকার, বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের ফরিদপুর ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো.শরিফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম, সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক, সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা বিভিন্ন এনজিও ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জানান, গ্রাম আদালতে অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে এবং অতি সহজে বিরোধ বিবাদ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।প্রতিনিধি মনোনয়নে আবেদনকারী ও প্রতিবাদী সমান সুযোগ পায়। পক্ষগণ নিজের কথা নিজে বলতে পারে আইনজীবী দরকার হয় না। গ্রাম আদালতে সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়, এক বিরোধ থেকে অন্য বিরোধ সৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকে। পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগণ বিশেষ করে নারী, প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ সকলেই খুব সহজে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পায়।
গ্রাম আদালতের সাফল তুলে ধরে কার্মশালায় আরও জানান, ২০২৪সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত সালথা উপজেলায় মোট ৬৫৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। এরমধ্যে নিষ্পত্তিকৃত মামলার হার ৯৭.৮৬%। বাস্তবায়িত সিদ্ধান্তের হার ৯৬.৮৮%। ক্ষতিপূরণ আদায় টাকা ৪৪,৭৯,২০০টাকা। মামলার মধ্যে ১৮৭জন নারী আবেদনকারী ছিলেন। বিচার প্রক্রিয়ার অংশগ্রহণ নারী ১৬.০৪%। ৩৫ হাজারের বেশি নারী-পুরুষকে সচেতন করা হয়েছে। উচ্চ আদালত থেকে প্রেরিত মামলা ৪৪টি।




