
মো.বখতিয়ারুল ইসলাম,উত্তর ধরলা (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
গত কয়েকদিনে কুড়িগ্রামের উত্তর জুড়ে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠানামা করলেও ৩ জানুয়ারি সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।
সম্প্রতি, শীতের তীব্রতায় জবুথবু হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী উপজেলার মানুষের জনজীবন। দিন ও রাতে হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বেশী অনুভুত হচ্ছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ জন রয়েছে শীত কষ্টে। বিকাল থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত শীতের তীব্রতা থাকে প্রচন্ড। দিনের বেলা সুর্যের আলোয় চারদিকে আলোকিত হলেও তেমন উত্তাপ থাকে না সূর্যালোকে।
জেলার নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফসলি জমি, ঘাসের ডগা এবং খোলা মাঠে জমে আছে শিশিরবিন্দু। দিনের রোদ সামান্য উষ্ণতা দিলেও সন্ধ্যার পর আবার নেমে আসে কনকনে ঠান্ডা। মধ্যরাতের পর হিমেল হাওয়ার তীব্রতা আরও বাড়ে। শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা-ভ্যান চালক ও খেটে খাওয়া মানুষ।
নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের চর বিষ্ণুপুর এলাকার প্রান্তিক কৃষক মজনু মিয়া, শহিদুল ইসলাম বলেন, আমন ধান কর্তন শেষ হয়েছে। তীব্র ঠান্ডায় সিদ্ধ ধান ঢুকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাশেমবাজার এলাকার শামসুল হক বলেন, সকালে রিকশা নিয়ে বের হলে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। কিন্তু রিকশা চালাতে হবে এজন্য বাড়ি বের হয়ে আসছি।
বানুরখামার এলাকার ঠেলাচালক ইসমাইল আলী জানান, সকালে ঠেলাগাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। ভালো পাওয়া যায় না। শীত এভাবে বাড়তে থাকলে বের হওয়া যাবে না। অনাহারে থাকতে হবে।
হাশেমবাজার এলাকার কৃষক মঞ্জুল হক জানান, শীতকালে আলু, টমেটো, শশাসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু সকালে শীতের কারণে ফলের অবস্থা ভালো না।
রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, কুড়িগ্রামে সামনে আরও শীত ও কুয়াশা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিদিনই কুয়াশার ঘনত্ব বাড়ছে। সামনে শীত ও কুয়াশা আরও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি জানান, শনিবার ভোর ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০ডিগ্রি সেলসিয়াস।




