
মোঃ আব্দুজ জাহের, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি: রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে এক যুবক ও এক তরুণীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় পরিচয় সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং পারিবারিক সূত্রে তথ্য যাচাই করে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অনেক তথ্যই ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
জানা গেছে, যুবকের নাম ইটো চাকমা। তার বাড়ি রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার জীবতলী এলাকায়। অপরদিকে তরুণীর নাম আঁখি চাকমা। তার বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণীর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন ধরনের দাবি প্রচার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হলে স্থানীয় প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আঁখি চাকমার মা কহিনুর আক্তার পূর্বে মুসলিম ধর্মাবলম্বী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করে কালাইয়া চাকমাকে বিয়ে করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তরুণীর ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
আঁখি চাকমা জানান, তার পিতার নাম কালাইয়া চাকমা এবং মাতার নাম কহিনুর আক্তার। তিনি জন্মসূত্রে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তাদের স্থায়ী বাড়ি মহালছড়ি উপজেলায়। তিনি ছোটবেলা থেকে দাদির বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করেছেন এবং পাকুজ্যাছড়ি এলাকার উলুছড়ি মৌজা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা লাভ করেছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।
তাদের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে আঁখি চাকমা বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে এক বন্ধুর মাধ্যমে ইটো চাকমার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বিষয়টি সম্পর্কে বাঘাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রতন চাকমা বলেন, “আমি বিয়ের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। দুই পরিবারের সম্মতিতে এবং সামাজিক রীতি-নীতি মেনে ছেলের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তার অনেকগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।”
স্থানীয় সূত্রগুলোও জানিয়েছে, বিয়েটি পারিবারিক সম্মতির ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের জোরপূর্বক বিয়ে বা ধর্মান্তরের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য প্রচার সমাজে বিভ্রান্তি ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করতে পারে। তারা তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মন্তব্য অনুযায়ী, ইটো চাকমা ও আঁখি চাকমা উভয়েই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। ফলে তাদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহল মনে করেন, সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থান বজায় রাখতে গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকা এবং যেকোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।




