
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, “প্রধান উপদেষ্টা ইউনুছ সাহেব বৈষম্য সৃষ্টি করেছেন, দরকার ছিলো ওনার পরিষদ নিয়ে বিদেশ সফর করা, তিনি কিছু দলকে নিয়ে বৈষম্য সৃষ্টি করেছেন, অন্যদের বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়েছেন। তিনি নিরপেক্ষ নয়, তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেন নাই। তিনি বলেন, সরকার প্রধান অনেক বড় শিক্ষিত, শান্তিতে পেয়েছেন নোবেল, তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় আন্ডা পেয়েছেন, জিরো পেয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাড়ে ৫টায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী চৌরাস্তা স্টীল পট্টিতে ইসলামী আন্দোলনের আয়োজনে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্থার, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান, গণহত্যার বিচার ও পি.আর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন এবং ইনাসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে গণসমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথাগুলো বলেছেন।
তিনি বলেন, দেশে কিছু দালাল জরিপ প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তারা তাদের খেয়ালখুশি মতো রিপোর্ট প্রকাশ করেন। প্রকৃত রিপোর্ট তারা করেন না। তারা রির্পোটে লেখেন, নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের কোন ভোটই নাই, মানে কোন পার্সেন্টেজ নাই, জরিপকারীরা দালাল।
বোয়ালমারী উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি ও ময়না ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা আব্দুল হক মৃধার সভাপতিত্বে ফয়জুল করিম বলেন, গত ৫৩ বছরে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের মধ্যে বিএনপি-আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বে ৬বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এদেশের মানুষ ওই সকল রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ড দেখেছেন। যে কারণে আজ সাধারণ জনতা আলেম-ওলামাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
দেশে কোন ন্যায় বিচার নাই উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন, বিচারীক কোর্ট এখন ঝুঁকে গেছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় নাই, আওয়ামীলীগের সকল লোক এখন জেলে। সে সময় যাঁরা ক্ষমতায় ছিলো না, তারা এখন বাইরে। তিনি বলেন, দেশে ক্ষমতা পরিবর্তন হওয়ার সাথো সাথে আসামী উপস্থিত ব্যাতিত সাজা মওকুফ হয়, এরকম কোন আইন কখনো শুনিনি। এটা আদালত নয়, এটা ন্যায় বিচার নয়।
তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পরেই আমরা দেখেছি একটি রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। দেশের কোন মানুষ বলতে পারবে না কোন ইসলামিক দল বা আলেম উলামারা এ জাতীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। আজ আমরা সবাই সামিল হয়েছি দেশে ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েমের জন্য, এর মধ্য দিয়ে আলেম সমাজ রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে দেশের মানুষ দুর্নীতি মুক্ত হতে পারবে, থাকবে না কোন বৈষম্য, শিক্ষা-স্বাস্থ্য বাসস্থান সকলের জন্য সমান ভাবে নিশ্চিত করা হবে। নিশ্চিত করা হবে সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা। সর্বশেষ তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কোন মূল্যে পিআর পদ্ধতিতে করতে হবে জানান।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাইখুল হাদীস আল্লামা শাহ আকরাম আলী, ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য ড.মো. ইলিয়াস মোল্লা, ফরিদপুর-১ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি সরাফত হোসেন ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ওয়ালিউর রহমান রাসেল, ইসলামী আন্দোলনের ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।




