এমপি মমতাজ কাকে শয়তান ও ছাগলের বাচ্চা বললেন

সিরাজুল ইসলাম, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) : বাংলা নববর্ষ-১৪৩০ (পহেলা বৈশাখ)-এ জনপ্রিয় ফোকসমরাজ্ঞী ও মানিকগঞ্জ-০২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের একটি ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ফেসবুক পোস্টে তিনি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাবেক নেতাকে ইঙ্গিত করে লিখেন- “এই সয়তানের বাচ্চা যখন পার্টির দায়িত্বে ছিলো তখনও হাতে পায়ে ধরেও কখনও হরিরামপুর নিতে পারিনাই, আর এখন ওর বাপের পিছনে পিছনে তিন নম্বর ছাগলের বাচ্চা হয়ে ঘুরে বেড়ায়।” তবে যাকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন পোস্ট দিয়েছেন তার নাম লিখেননি মমতাজ বেগম এমপি। মূহুর্তেই ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে বিভিন্ন ধরনের কমেন্ট করেন নেতাকর্মীরা। পরে রাতেই ওই পোস্টটি ফেসবুক আইডি থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। এতে তার নির্বাচনী এলাকায় চলছে কানাষুষা। তার পোস্টকে ঘিরে জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে হরিরামপুর উপজেলা পরিষদ হল রুমে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসনের আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শিল্পপতি জাহিদ আহম্মেদ টুলুর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড গোলাম মহিউদ্দিন। হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ওই মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। এদিকে, সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল মাজেদ খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়েদুল ইসলাম ও ৭ জন ইউপি চেয়ারম্যানসহ বেশ কিছু নেতাকর্মীরা ওই সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার পর এমপি মমতাজ তার ফেসবুক আইডিতে এ পোস্ট করেন।
পোস্টটি নিয়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা বলছেন, এমপির এই পোস্টটিতে বলধারা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল মাজেদ খানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। দীর্ঘ ২৭ বছর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মাজেদ খান গেল ৩০ জুলাই তিন সদস্যের ঘোষিত আওয়ামীলীগের কমিটি থেকে বাদ পড়েন । গত শুক্রবার জাহিদ আহম্মেদ টুলুর কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করায় মমতাজ বেগম এমপি ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে এরকম পোস্ট দেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। মমতাজের এ পোস্টটিতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুর রহমান শহিদ শুধু “টাকা” শব্দটি লিখেই মন্তব্য শেষ করেন ।
পোস্টটি নিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, আওয়ামীলীগের এ প্রবীণ নেতা ও টানা ৭ বারের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এভাবে মন্তব্য করে হেয় করা সংসদ সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।
এ প্রসঙ্গে সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বলধারা ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল মাজেদ খান বলেন, আমাকে নিয়ে এমপির এমন মন্তব্যে জেলা-উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ।




