মানিকগঞ্জে মঙ্গল শোভাযাত্রায় বাঙালির অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রত্যয়

মো.নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : এবার এ মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে: ‘বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি’। এর মাধ্যমে সবার কামনা–পৃথিবীতে শান্তি নেমে আসুক।
আজ মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় এবং সরকারি বেসরকারি সংগঠনের অংশগ্রহণে মানিকগঞ্জ বিজয় মেলা মাঠে শান্তির পায়রা উড়িয়ে নতুন বছরের উদ্ভোদন ও মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে বিভিন্ন সংগঠনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্ভোদনী পর্ব ও আলোচনা সভায় মান্যবর জেলা প্রশাসক জনাব মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ সভাপতিত্বে এবং প্রফেসর বাসুদেব সাহা ও এ্যাডভোকেট রোমেজা আক্তার খান মাহিন এর যৌথ সঞ্চালনায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে বাঙালির বৈশাখের তাৎপর্য নিয়ে ধারণাপত্র পাঠসহ কর্মসূচির নির্দেশনা করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সেলিনা সাঈয়েদা সুলতানা আক্তার।
একসময় উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা জজ কোর্টের বিজ্ঞ পিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, মানিকগঞ্জের নগর পিতা পৌর মেয়র মো.রমজান আলী, পুলিশ সুপার মো.গোলাম আজাদ খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক জনাব সানোয়ারুল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মমিন উদ্দিন খান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো.জাকির হোসেন, জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক জোয়ার্দার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো.শাহিন আহমেদ, আবৃত্তি প্রশিক্ষক অধ্যাপক রুহুল জামান সুজন, আফরোজা রমজান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের সহকারি প্রধান শিক্ষক কাশিনাথ সরকার, বারসিক প্রকল্প কর্মকর্তা মো.নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
আলোচনা উঠে আসে বাঙালি হাজার বছরের লোকায়ত সংস্কৃতি চর্চার কথা।
এবারের শোভাযাত্রায় নতুন সংযোজন বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত প্রায় কৃষকের লাঙ্গল যোয়ালএর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের প্রতি লোকায়ত কৃষি চর্চায় উৎসাহিত করা হয়।
একই সঙ্গে শোভাযাত্রায় বিভিন্ন মুখোশ, পেঁচা, ঘোড়া, ট্যাপা পুতুল, নকশি পাখি ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হয়।
এদিকে শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢোলের তালে তালে নাচতে শুরু করেন অংশগ্রহণকারীরা। অনেকেই রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা উপভোগ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। সেবারই এ উৎসব সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়। এরপর থেকে বাংলা বর্ষবরণের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে এটি।
১৯৯৬ সাল থেকে চারুকলার এ আনন্দ শোভাযাত্রা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নাম ধারণ করে। পরে ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভ করে এ শোভাযাত্রা।




