sliderস্থানিয়

শিবগঞ্জে ময়লার স্তুপের দূর্গন্ধে জনদূর্ভোগ চরমে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ও রানীহাট্টি সহ বিভিন্ন হাট বাজারের অনেক স্থানে দীর্ঘদিন যাবত এমনকি দশকের পর দশক ধরে জমে আছে ময়লার স্তুপ। ছড়াচ্ছে দূর্গন্ধ। বাড়ছে রোগ বালাই। চরম দূর্ভোগে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও দোকানদার সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। এমনকি স্থানীয়দের জন্য বাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে সরকারী জায়গা না থাকায় ময়লা বা আবর্জণা ফেলার বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন জটিল হয়ে পড়েছে।

সরজমিনে ঘূরে মনাকষা বাজারের দক্ষিণ–পশ্চিম কোণে ও রাণীহাটি বাজারের জেন্টু মিয়ার মার্কেটে দীর্ঘদিন যাবত ময়লার স্তুপ জমে থাকার কারণে মানুষের জীবনযাপন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। এ সমস্ত ময়লার স্তুপ ১৫ বছরে ৩০ বছর ধরে জমে আছে । মনাকষা প্রায় ৩০ বছর ধরে বাজারের সব ধরনের ময়লা,পচা খাবার, মৃত প্রাণীসহ নানা বর্জ্য এখানে ফেলা হচ্ছে। ফলে দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ছে স্থানীয়দের অভিযোগ।

তাদের ভাষ্য এখান দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় অসুস্থ হতে হচ্ছে। এ ময়লার স্তুপের ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হুমায়ুন রেজা উচ্চবিদ্যালয়,মনাকষা দাখিল মাদ্রাসা, মনাকষা সরকারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মনাকষা বিওপির বিজিবি সদস্য সহ এলাকার প্রায় ১০-১২টি গ্রামের বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষকে।

স্থানীয় মনাকষা দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী নাজিমুদ্দিন বাসেদ বলেন, “কোন উপায় না থাকায় এই পথ দিয়েই আমাদের মাদরাসা যেতে হয়। খুব দুর্গন্ধ, এতে আমরা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি।” অথচ্ এ দূর্গন্ধযুক্ত ময়লা-আবর্জনার চারপাশেই রয়েছে মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ক্লিনিক, কাজি অফিস,মুরগীর বাজার,কয়েকটি লাইব্রেরী ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এদিকে বর্জ্য স্তুপের পাশেই রয়েছে দূর্গন্ধযুক্ত জলাবদ্ধতা। যেখানে যেখানে মশা, মাছির অবাধ বিচরণ। ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে জীবাণু। এতে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, ডায়রিয়া এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয়দের আশ্রয়ন প্রকল্পের অধিবাসীদের অভিযোগ, বাজারের সব ধরনের বর্জ্য, পচা খাবার, মৃত প্রাণীসহ নানা আবর্জনা এখানে ফেলা হয়। অভিযোগ করেও মেলেনি কোনো সমাধান। নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ও রাস্তার পাশের জমিতে ফেলা হচ্ছে এসব বর্জ্য।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ইসরাইল হক রেন্টু বলেন, “সব ময়লা এখানে ফেলা হয়। এতে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। প্রায় ৩০বছর ধরেই এখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা হয়।” স্থানীয় ৭৫ বয়োসর্ধ্ব এক বৃদ্ধ নারী জানান, “রাস্তা দিয়্যা হাঁটা যায় ন্যা, গন্ধ কইরছে। মনে হইচ্ছে বুমি(বমি) উঠ্যা যাইবে।” কালাম নামের স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “গন্ধের কারণে থাকা যায় না। কোন প্রাণী মারা গেলে এখানেই ফেলে রেখে যায়। মশার উপদ্রবও বেড়ে গেছে। এখানে বাস করি। খুব কষ্টে আছি। আমরা এর থেকে পরিত্রাণ চাই।”

একইভাবে শিবগঞ্জ উপজেলার রাণীহাটি বাজারের জেন্টু মিঞার মার্কেটের পেছনেও ১০ থেকে ১২ বছর ধরে পড়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ। ৫ম শ্রেণীর তানিশা জানায় রাণীহাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে খুব কষ্ট হয়। “এখানে অনেক ময়লা আর দুর্গন্ধ। একই কথা জানান তোরিকুল ইসলাম,দিলীপ কর্মকার, লন্ডীর দোকানদার সহ বিভিন্ন পেশার অনেকেই জানান, “এখানে প্রায় ১০-১২ বছর যাবৎ ময়লা ফেলা হচ্ছে। জায়গায় এসব আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। চলাচলেরও সমস্যা হচ্ছে।” যত্রতত্র খোলা জায়গায় দীর্ঘদিন যাবত ময়লার স্তুপ পড়ে থাকার ফলে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং রোগজীবাণু ছাড়াচ্ছে। শুধু এ দুই স্থানেই নয় শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ২৫-০৩০ হাটবাজারের একই অবস্থা বলে সরজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা ও দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এর সহকারী পরিচালক আবু সাইদ- জানান “বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব আমাদের নয়। এটি দেখবে স্থানীয় সরকার প্রশাসন। ১০নং মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মির্জা শাহাদাৎ হোসেন জানান মনাকষা বাজারে কোন খাস জমি না থাকার কারণে ইচ্ছা থাকলেও কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া ময়লা ফেলার বিকল্প জায়গা না থাকায় ময়লা পরিস্কার করেও লাভ হচ্ছে না। এর আগে অপসারণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন হাট বিক্রী করার সময় উপজেলা প্রশাসনের কাছে হাট বাজার পরিস্কার জন্য খরচ বাবদ টাকা জমা থাকে। উপজেলা প্রশাসন ইচ্ছা করলে এটি উদ্যোগ নিতে পারে। তবে বৃহত্তর জনস্বার্থে উদ্যোগ নিবো।

এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম জানান হাট বাজারের ময়লার স্তুপ অপসারনের দায়িত্ব উপজলা প্রশাসনের নয়। এটির দায়িত্ব হলো হাট ইজারাদারদের। হাট বাজারের কোন টাকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে থাকে না। ইজারাদারদর কাছে আমানত স্বরুপ কিছু টাকা হাট বাজারের ময়লা আবর্জনা পরিস্কারের জন্য থাকে। তারপরও বৃহত্তর জনস্বার্থে মনাকষা ও রানীহাট্টি জেন্টু মিয়ার মার্কেট সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের ময়লার স্তুপ অপসারণ করার জন্য জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button