
পতাকা ডেস্ক: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রাজধানীর বিজয়নগরস্থ দলীয় কার্যালয়ে এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলতাফ হোসাইনের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য প্রদান করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন লন্ডনপ্রবাসী ড. কামরুল হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তর আহ্বায়ক সেলিম খান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন।
সভাপতির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন আমাদের মেন্টর। তিনি সবসময় লিগ্যাল পয়েন্টে কথা বলতেন এবং পেশাগত জীবনে অত্যন্ত সিরিয়াস ছিলেন। ব্যক্তিগত খোঁজখবর নেওয়া, পরামর্শ দেওয়া এবং নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখতেন। তিনি আমাদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, এমনকি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সভায় অংশগ্রহণের সুযোগও করে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তিনি অত্যন্ত সময়ানুবর্তী ও প্রস্তুতিপূর্ণ মানুষ ছিলেন। কোনো মিটিং তিনি প্রস্তুতি ছাড়া করতেন না। তাঁর ব্যক্তিত্ব, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব আমাদের জন্য অনুকরণীয়। এবি পার্টির প্রতিটি ধাপে তাঁর অবদান জড়িয়ে আছে। এবি পার্টির নাম যতদিন থাকবে, ততদিন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ছোঁয়া লেগে থাকবে।
মঞ্জু আরও উল্লেখ করেন, “তিনি ছিলেন ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর। দেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনে তাঁর অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ব্যারিস্টার রাজ্জাককে এবি পার্টির স্মরণ করা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ, স্মার্ট এবং প্রস্তুতিপূর্ণ। আদালতে তিনি পরিমিত ও যুক্তিনির্ভর বক্তব্য দিতেন। পেশাদারিত্বে তিনি ছিলেন অনন্য এবং তরুণ আইনজীবীদের সবসময় পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিতেন।
তিনি আরও বলেন, টাইম ম্যানেজমেন্টে তিনি ছিলেন অসাধারণ। জুনিয়রদের সঙ্গে আলোচনা করে কাজ করতেন। তাঁর মতো উচ্চমানের আইনজীবী খুব বেশি ছিল না। তিনি অনেক আগে থেকেই এবি পার্টির মতো একটি উদারপন্থী রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। আইন অঙ্গনে অবদান রাখা মানুষদের স্মরণ করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।
অনুষ্ঠান শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, এবিএম খালিদ হাসান ও শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, শ্রমিক বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স ও সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, গণশিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা) শাজাহান ব্যাপারী,গাজীপুর মহানগরের সদস্য সচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা, শ্রম বিষয়ক সহ সম্পাদক আজিজা সুলতানা,
সহকারী প্রচার সম্পাদক রিপন মাহমুদ, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ-সম্পাদক আমেনা বেগম, উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক সহ-সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা এবং সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিলসহ দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।




