slider

পীরগাছায় বেপরোয়া দলিল লেখকরা : ৩শ টাকার হলফ ২ হাজার টাকা

রংপুর ব্যুরোঃ রংপুরের পীরগাছায় বেপরোয়া হয়ে উঠছে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখকরা। জমির দলিল গ্রহিতাদের নানা ধরনের ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। অফিসটিতে সিটিজেন চার্টার না থাকার সুযোগে প্রতি দলিলে ৩শ টাকার হলফ নামা দিয়ে নেয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকা। অথচ সরকার পাচ্ছে ৩শ টাকা এবং ষ্ট্যাম্প ভেন্ডাররা পাচ্ছেন ৫০ টাকা। এভাবে প্রতি দলিলে অতিরিক্ত ১৬শ ৫০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কথিত দলিল লেখক সমিতির লোকজন। প্রতি মাসে আদায় করা প্রায় ২০ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেন দলিল লেখকরা। যা দেখেও না দেখার ভান করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে অসহায় দাতা-গ্রহিতারা এখন বলির পাঠায় পরিনত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গোটা উপজেলাজুড়ে এখন চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে পীরগাছা উপজেলা পাকার মাথা রাজবাড়িতে ভাড়ায় সাব রেজিষ্ট্রি অফিস স্থাপন করা হয়। এর আশেই দলিল লেখকরা বসতেন। দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার ও মেরামত না করায় ভেঙ্গে জরার্জীণ হয়ে গেছে অবকাঠামো। বেশ কয়েক বার সাব রেজিষ্ট্রি অফিস অন্যত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হলেও দলিল লেখকদের বাঁধা-বিপত্তির কারণে সরানো যাচ্ছে না। ফলে পলিথিনে ঢেকে রাখা হয়েছে মূল্যবান কাগজপত্র, ভলিউম বই ও দলিলগুলো। বৃষ্টির পানি পড়ে অনেক কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। দলিল লেখকরা এ জায়গা থেকে সরতে নারাজ। অফিস অন্যত্র নিলে দলিল লেখকরা সুবিধা করতে পারবেন না বলে তারা বার বার বাঁধা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। 

এদিকে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন দলিল লেখক সমিতির নামে চলছে রমরমা ব্যবসা। দাতা-গ্রহিতার পকেট কেটে দলিল লেখকরা হচ্ছেন রাজা-বাদশা। অফিসটিতে নেই কোন সিটিজেন চার্টার। ফলে ৩শ টাকার হলফ নামা দিয়ে সমিতির নামে নেয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকা। যার ১৬৫০ টাকা চলে যায় সমিতির কোষাগারে আর প্রিন্ট ও আনুষাঙ্গিক খরচ বাবদ ৫০ টাকা পান ষ্ট্যাম্প ভেন্ডাররা। অফিসের হিসেব অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রায় ১২শ দলিল সম্পাদন করা হয়। সেই হিসেবে প্রায় ২০ লাখ টাকা মাস শেষে ভাগবাটোয়ারা করে নেন কথিত ওই সমিতির ১০০ সদস্য। দীর্ঘদিন থেকে এভাবে চলে আসলেও কেউ কোন প্রতিবাদ করার সাহস পান না। সাব-রেজিষ্ট্রার নিজেই এই অনিয়মের সাথে জড়িত থাকায় কে শোনে কার কথা! 

দলিল করতে আসা ববিউল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, সিরাজুল ইসলাম বলেন, গোটা অফিসে কোথায় কোন সিটিজেন চার্টার নেই। কেউ ঠিকমত হিসেব দেয় না। বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে তারা টাকা আদায় করে। আমরা বলির পাঠার মত দেই। কিছু করার নেই। 
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখক বলেন, কাজকাম কম, তাই হলফের নামে নেয়া টাকা সবাই ভাগবাটোয়ারা করে নেই। এখান থেকে অনেককে চাঁদা দিতে হয়। 

ষ্ট্যাম্প ভেন্ডার হাসমত আলী আকন্দ ও আমজাদ হোসেন বলেন, অফিসটিতে শুধু টাকার খেলা চলছে। কোন নিয়মের বালাই নেই। আমাদের থেকে ৩শ টাকার হলফ কিনে দলিল লেখকরা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে। আবার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে হলফ বিক্রি। অফিস এখান থেকে সরবে না। সুবিধা মত জায়গায় তারা ব্যবসা করছে। 

এ বিষয় কথিত দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মজিবর রহমান বলেন, কোন দলিল লেখক সমিতির রেজিষ্ট্রেশন নেই। আমরা হলফে কম নিয়ে থাকি। অন্য জায়গায় আরো বেশি নেয়। 

জানতে চাইলে রংপুর জেলা রেজিষ্ট্রার আব্দুস সালাম প্রামানিক বলেন, কোন দাতা-গ্রহিতা অভিযোগ করে না। আর বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ সুনিদিষ্ট ভাবে অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button