
পতাকা ডেস্ক : বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন ইন্তেকাল করেছেন, ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, রোববার রাত দেড়টার দিকে রাজধানী শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি । মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত ২ মাস তিনি বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন দীর্ঘদিন হার্টের রোগে ভুগছিলেন। গত ২০ নভেম্বর তার অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন স্থপতি ইকবাল হাবিব।
তিনি বলেছিলেন, প্রথমে চোখের সমস্যা নিয়ে গত ৯ নভেম্বর রাজধানীর বেসরকারি স্পেশালাইজ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেখানে তার হার্টের আগের সমস্যা আবারও দেখা দেয়। দুদিন আগে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও শেষমেশ তার মাল্টিপল অর্গান ফেইলিওর দেখা দেয়।
বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, মোবাশ্বের হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তার মরদেহ দুপুর ১২টায় আগারগাঁওয়ে ই-১১, স্থাপত্যাচার্য মাজহারুল ইসলাম সড়কের (নির্বাচন কমিশনের পূর্ব পাশে) বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটে আনা হবে। বাদ জোহর সেখানে তার জানাজা হবে। পরে বাদ আছর ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবে আরেক দফা জানাজা হবে। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মরদেহ বিএসএমএমইউ হাসপাতালে দান করা হবে।
১৯৪৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম মোবাশ্বের হোসেনের।
উল্লেখ্য, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যের স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি এসোকনসাল্ট লিমিটেড-এর প্রধান স্থপতি। তিনি কমনওয়েলথ অ্যাসোসিয়েশন অব আর্কিটেক্টস এবং বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট-এর প্রেসিডেন্ট। স্থপতি মোবাশ্বের আর্কিটেক্টস রিজিওনাল কাউন্সিল, এশিয়া (আর্কেশিয়া)-এর প্রেসিডেন্টও ছিলেন।
স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের সাবেক সভাপতি। এ ছাড়াও সম্মিলিত ক্রীড়া পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়কও ছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে প্রশিকা ভবন, গ্রামীণ ব্যাংক ভবন ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন।


