Uncategorized

ঘাস চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন করলেন সাবু মিয়া

শাহিন আলম, গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি : দেশের খাদ্যর অভাব পুরন করতে গরু,ছাগল পালনে গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গরু,ছাগলের খাদ্যর অভাব পুরন করতে বাংলাদেশে চার জাতের ঘাস চাষ হচ্ছে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কোচাশহর ইউনিয়নে হরিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানে ছেলে সাবু মিয়া ঘাস চাষ করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন।কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত পাঁচ বছর পূবে জীবিকার তাগীদে প্রবাসে য়াওয়ার জন্য নিজের সয়-সম্বলটুকু বিক্রি করে চার লক্ষ টাকা দালালের কাছে জমাদিয়ে কয়েক বছর ঘুরেও বিদেশ যাওয়া হয়নি। হতাশ হয়েপরে সাবু মিয়া ,সংসার যন্ত্রে চাকা ঘুরাতে তাকে কত কি না করতে হয়েছে তার পরেও নুন আনতে পানতা ফুরায় সংসারে। একবেলা খেয়ে অন্যবেলা নাখেয়ে দিন পার করছে সে। গত পাঁচ বছর পূবে এনজিও থেকে পঞ্জাশ হাজার টাকা ্ঋন নিয়ে জমি বন্ধক নেয়। ঐ বন্ধক কৃত জমিতে লিপিয়ার জাতের ঘাস চাষ করে পনের হাজার টাকা বিক্রি করে তারপর থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন তার মাসিক আয় ১লক্ষ টাকার অধিক সে এখন ২৫ বিঘা জমিতে চার জাতের নেপিয়ার, ফোরজী কার্টিং, পাকচং ওয়াং, রেড পাকচং, চাষ করেন। তিনি বলেন আমার ঘাসের জমিতে প্রতিদিন ১০/১২জন লোক প্রতিনিয়ত কাজ করে। আমি প্রতিদিন ৯/১০ হাজার টাকার ঘাস বিক্রি করছি। লেবার খরচ ও চাষ খরচ বাদ দিলে প্রতি মাসে আমার এক লক্ষ টাকার বেশি আয় থাকে। আমি সরকারী ভাবে কোন প্রশিক্ষন বা সহায়তা পাইনি যদি আমাকে সহায়তা করা হয় তাহলে আমার এ প্রজেক্ট আরো বরোসরে করতে পারব এবং আরো কর্মসংস্থান সৃষ্টিহবে তিনি আশা করেন। ঘাস চাষে কীভাবে এত লাভ করছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্য যে কোনো ফসলের তুলনায় ঘাসের চাষ কম ব্যায়বহুল। কোনো কীটনাশক লাগে না জমিতে সেচ কম লাগে। একবার কোনো জমিতে ঘাস লাগালে পরের টানা তিন বছর ধরে ফসল পাওয়া যায়। যদি এক বিঘা জমিতে নেপিয়ার চাষ করা যায় তবে প্রতি মাসে সেখান থেকে ঘাস কাটা যায়। এক বিঘা জমি থেকে ৩ হাজার আটি (৫-৬ কেজি ওজনের) ঘাস কাটা যায়, যার বর্তমান বাজারমূল্য ২০-৩০ হাজার টাকা (প্রতি আটি ৮-১০ টাকা)। এক বছরে এইভাবে একই জমি থেকে ৭-৮ বার ঘাস কাটা যায়। প্রতি বিঘা জমিতে বছরে খরচ হয় ৩০-৪০ হাজার টাকা আর লাভ হয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। বাংলাদেশের আমিষ জাতীয় খাদ্যর অভাব পুরনে করতে এবং পশু পালনের জন্য এই ঘাস গুলো অত্যান্ত উপযোগী। সরকারিভাবে স্বল্পসুদে ঋণ এবং উপযুক্ত সহায়তা দেয়া হলে সাবু মিয়ার মত আরও অনেকেই এই ঘাস চাষ করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারবেন বলে মনে করেন সচেতন মানুষ। এবিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার বেলাল হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন খুব শিঘ্রই প্রাণী পুষ্টির আওয়াতায় সকল ঘাস চাষীদের সহয়াতা দেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button