sliderস্থানিয়

দৌলতপুর থানার ওসি ও এসআই বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার

দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা: দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন ও এসআই হাবিবুল্লাহ বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক কর্মকাণ্ড, জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ এবং ৫ লক্ষ টাকা অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের কাছে গত ৩ মে ২০২৬ ইং লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মনি রহমান।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার টেপরি গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান মিলনকে গত ৫ এপ্রিল দুপুরে কোনো লিখিত অভিযোগ ছাড়াই এসআই হাবিবুল্লাহ পুলিশের গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই চট্টগ্রাম থেকে আসা রিংকু চৌধুরী নামে এক নারী উপস্থিত ছিলেন, যিনি ২৪ লাখ টাকার দাবি করেন।

ভুক্তভোগীর মেয়ে মনি রহমান অভিযোগ করেন, থানায় নেওয়ার পর তার বাবাকে ২৪ লাখ টাকা পরিশোধের শর্তে লিখিত কাগজে স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়া হয়। স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হাতকড়া পরিয়ে একটি কক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে জোরপূর্বক একটি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়, যেখানে নির্দিষ্ট তারিখে থানায় হাজির হওয়ার কথা বলা ছিল।

পরবর্তীতে নির্ধারিত তারিখে থানায় গেলে তিনি জানতে পারেন, তার কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে স্বীকারোক্তিমূলক ওই স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, থানার ওসি তার বাবার কাছে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

ঘটনার দিন ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে আকাশ রহমান সুজন তার বাবার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে আলাদা কক্ষে নিয়ে অশোভন আচরণ ও গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান মিলন বলেন -আমাকে এসআই হাবিবুল্লাহ জোর করে পুলিশের গাড়ীতে উঠিয়ে থানায় নিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলে, স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করলে আমাকে হাত কড়া পড়িয়ে আমার কাছ থেকে ওসি কমর উদ্দিন ও এসআই হাবিবুল্লাহ স্বাক্ষর নেয়।

পরে আমি জানতে পারি রিংকু চৌধুরী নামে মহিলাটি আমার নামে ২৪ লক্ষ টাকার দাবিতে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন ।মুলত ওই মহিলা লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি ।

সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমার কাছ থেকে অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর নেয়। মুলত রিংকু চৌধুরী নামে আমার কাছে কেউ টাকা পাবেনা। তার পর ওসি কমর উদ্দিন ৫ লক্ষ টাকা ঘুষের দাবীতে আমাকে বিভিন্ন সময় ফোন করে এবং আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে।

দৌলতপুর থানার এসআই হাবিবুল্লার সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: কমর উদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট।

মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button