sliderস্থানিয়

শিবগঞ্জে প্রায় ৩শ কর্মকার ব্যস্ত হাতিয়ার তৈরী ও বিক্রী করতে

শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)সংবাদদাতা: সামনে মাত্র তিনদিন পর ঈদুল আজহা। এ ঈদকে কেন্দ্র করে গরু ব্যবসায়ী যেমন গরু ক্রয় করে আবার বিক্রী করা নিযে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তেমনি সাধারণ মানুষ কোরবানীর পশু বা গরু ছাগল ক্রয় করা নিয়ে ব্যস্ত। এ কোরবানী জবেহ ও মাংস তৈরীর জন্য হাতিয়ারে ধার দেয়া নেয়া ও তৈরী কৃত হাতিয়ার বিক্রী করা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে শিবগঞ্জ উপজেলা ১৫টি উপজেলা ও ১ পৌরসভার প্রায় তিন শত কামার। তারা সকাল চারটা থেকে রাত প্রায় নয়টা পর্যন্ত হাতিয়ারে ধার দিতে এক রকম নাওয়া খাওয়া ভুলেই গেছে। অন্যদিকে গ্রাহকরা কর্মকারের দোকানে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে নিজ নিজ হাতিয়ারে ধার দিয়ে নেয়।

গত দুইদিন যাবত উপজেলার মনাকষা,মোবারকপুর,চককীতি, পাঁকা ও বিনোদপুর সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাতিয়ারে ধার দিতে ব্যস্ত কামারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছরের ন্যায় তারা এবারও ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানীর পশু জবেহ ও মাংস তৈরী করার জন্য ছোড়া ও হাসুয়া ও কোপতা তৈরী ও ধার দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মত ঈদুল আজহার উপলক্ষে তাদের জন্য একটি মৌসুম হিসাবে কাজ করে। এ সময় তারা কোরবানীর পশু জবেহ করার জন্য ছোড়া ও মাংস তৈরীর করার জন্য হাসুয়া,বটি,দাও ও কোপতা তৈরী করে ও ধার দিয়ে থাকে। মনাকষা ইউনিয়নের কামার দিলীপ ও বিফল জানান, তারা বর্তমানে ভোর ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত হাতিয়ার তৈরীও ধার দিতে কাজ করছেন।হাতিয়ারে ধার দিতে ছোড়া প্রতি ৫০ টাকা,হাসুয়া প্রতি ৭০ টাকা, দাও প্রতি ১০০ টাকা, কোপতা প্রতি ১৫০ টাকা পারিশ্রমিক হিসাবে নেয়। বিফল আরো জানান প্রতিদিন প্রায় ৩০টি হাতিয়ার ধার দিতে থাকি। তাতে আয় হয় গড়ে ২৫০০ টাকা। তিনি আরো জানান আমরা গৃহস্থের সাথে যেহেতু বছর হিসাবে চুক্তি কাজ করে থাকি,সেহেতু এ মৌসুমে অনেককে বিনা টাকাতে হাতিয়ারে ধার দিয়ে দিতে হয়। চুক্তিভিত্তিক গৃহস্থদের নিকট হতে বছরে তিনবার ফসল পেয়ে থাকে। ওই সময় তারা সারা বছরের খাবার খরচ পেয়ে থাকে। একই কথা বললেন মনাকষার পেশাগত কামার স্বাধীন কর্মকার, দিলীপ কর্মকারসহ আরো ৭/৮জন কর্মকার।
অন্যদিকে মোবারকপুর ইউনিয়নের পলাম কর্মকার জানান, আমি প ্রতিদিন প্রায ৪০টি বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ারে ধার দিয়ে থাকি। পারিশ্রমিক বাবদ আয় হয় ৩৫০০ টাকা। এ মৌসুমে প্রায় ২০দিন এভাবে কাজ করতে পাই। তাতের আমার আয় হয প্রায় ৭০ হাজার টাকা। মোবারকপুর ইউনিয়নের নিমাই কর্মকার,অশীন কর্মকার, ডালিম কর্মকার সহ প্রায় ৭/৮জন একই ধরনের কথা জানাই। চককীতি ইউনিয়নের কমল কর্মকার বলেন প্রতি ঈদুল আজহার মৌসুমে আমি হাসুয়া,বটি,কোপতা,দাও ছোড়া তৈরী করে বিক্রী করে থাকি। প্রতিটি দাও ৪শ থেকে ৫শ টাকায়,হাসুয়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়, বটি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়,ছোড়া ৮০ থেকে ১০০ টাকায় এবং কোপতা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রী করে থাকি।প্রতিদিন প্রায় ৫০টি বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার বিক্রী করে থাকি।তাতে আমার খরচ বাদে আয় হয় দেনিক ৫০০ টাকা। তবে এ আয় ক্ষণস্থায়ী। ঈদুর আজহার এ মৌসুমে প্রায় ২০/২৫দিন এ ব্যবসা চলে।অন্যদিকে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারেও শতাধিক কর্মকার বিভিন্ন হাতিয়ার বিক্রী করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। হাতিয়ারের দোকানে মানুষ লাইন ধরে বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার ক্রয় করছে। এ ব্যাপারে শাহাবাজপুর ্ইউপি চেয়ারম্যান নিজামুর হক ও মোবারকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক হায়দারী ও শ্যামপুর ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল আলম সহ বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানগণজানান এটি শিবগঞ্জের ঐতিহ্য । প্রতিবছরই ঈদুল আজহার সময় প্রায় ৩শ কর্মকার প্রায় একমাস ধরে ব্যস্ত সময় পার করে থাকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button